অপারেশন সার্চলাইট: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য
>মুহাম্মদ লাবিব তাহমিদ সম্পাদনা সারাংশ নেই |
অ Text replacement - "2019" to "২০১৯" |
||
| (একজন ব্যবহারকারী দ্বারা সম্পাদিত একটি মধ্যবর্তী সংশোধন দেখানো হচ্ছে না) | |||
| ৫৫ নং লাইন: | ৫৫ নং লাইন: | ||
[[১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচন (পাকিস্তান)|১৯৭০ এর নির্বাচনে]] [[আওয়ামী লীগ]] নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর বাঙালিরা আশা করেছিল যে ক্ষমতার পালাবদল হবে এবং আওয়ামী লীগ [[৬ দফা আন্দোলন|৬ দফা]] অনুসারে সরকার গঠন করবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১ এ তৎকালীণ রাষ্ট্রপতি ও সেনা প্রধান [[ইয়াহিয়া খান]] পিপিপি ([[পাকিস্তান পিপলস্ পার্টি]]) এর [[জুলফিকার আলী ভুট্টো|জুলফিকার আলী ভুট্টোর]] প্ররোচনা ও চাপে জাতীয় বিধানসভার কার্যাবলি মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করে দেন। পিপিপি এরই মধ্যে [[শেখ মুজিবুর রহমান|শেখ মুজিবুর রহমানের]] জনপ্রিয়তা হ্রাস করার উদ্দেশ্যে তদবির চালিয়ে যাচ্ছিলো, জুলফিকার আলি ভুট্টো এও বলেন যে তিনি বাঙালিদের ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে চান। এই স্থগিতকরণের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ ৭ মার্চ ১৯৭১ এ একটি গণসমাবেশের আয়োজন করে। এই সমাবেশ এতই সফল ছিল যে পাকিস্তান সরকার সেনাছাউনি ও পূর্বপাকিস্তানের সরকারি প্রতিষ্ঠান কার্যাবলী সীমিত করে দিতে বাধ্য হয়। সধারন জনগণ ও সেনাবাহিনী এবং [[বাঙালি]] ও [[বিহারী|বিহারীদের]] মধ্যাকার সংঘর্ষ ছিল প্রতিদিনকার সাধারণ ব্যপার। জেনারেল ইয়াহিয়া শেখ মুজিবের সাথে বৈঠকের উদ্দেশ্যে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা আসেন,এবং এরপর ভূট্টো তার সাথে যোগ দেন। আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা না হস্তান্তরের উদ্দেশ্য (পশ্চিম পাকিস্তানি শাষক গোষ্ঠীর ভয় ছিল যে ক্ষমতা পূর্বে হস্তান্তরিত হলে পশ্চিমে পাকিস্তান পিপলস পার্টির কর্তৃত্ব হ্রাস পাবে)পাকিস্তানি জেনারেলরা,( যাদের মধ্যে [[গুল হাসান]] ছিলেন অগ্রগামী) পিপিপি কে সমর্থন যোগাতে থাকে যার ফলাফল দাঁড়ায় সেনা আক্রমণ<ref name="Siddiq_p48-51">Salik, Siddiq, Witness To Surrender, p48-51 id = {{আইএসবিএন|984-05-1373-7}}</ref>। | [[১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচন (পাকিস্তান)|১৯৭০ এর নির্বাচনে]] [[আওয়ামী লীগ]] নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর বাঙালিরা আশা করেছিল যে ক্ষমতার পালাবদল হবে এবং আওয়ামী লীগ [[৬ দফা আন্দোলন|৬ দফা]] অনুসারে সরকার গঠন করবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১ এ তৎকালীণ রাষ্ট্রপতি ও সেনা প্রধান [[ইয়াহিয়া খান]] পিপিপি ([[পাকিস্তান পিপলস্ পার্টি]]) এর [[জুলফিকার আলী ভুট্টো|জুলফিকার আলী ভুট্টোর]] প্ররোচনা ও চাপে জাতীয় বিধানসভার কার্যাবলি মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করে দেন। পিপিপি এরই মধ্যে [[শেখ মুজিবুর রহমান|শেখ মুজিবুর রহমানের]] জনপ্রিয়তা হ্রাস করার উদ্দেশ্যে তদবির চালিয়ে যাচ্ছিলো, জুলফিকার আলি ভুট্টো এও বলেন যে তিনি বাঙালিদের ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে চান। এই স্থগিতকরণের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ ৭ মার্চ ১৯৭১ এ একটি গণসমাবেশের আয়োজন করে। এই সমাবেশ এতই সফল ছিল যে পাকিস্তান সরকার সেনাছাউনি ও পূর্বপাকিস্তানের সরকারি প্রতিষ্ঠান কার্যাবলী সীমিত করে দিতে বাধ্য হয়। সধারন জনগণ ও সেনাবাহিনী এবং [[বাঙালি]] ও [[বিহারী|বিহারীদের]] মধ্যাকার সংঘর্ষ ছিল প্রতিদিনকার সাধারণ ব্যপার। জেনারেল ইয়াহিয়া শেখ মুজিবের সাথে বৈঠকের উদ্দেশ্যে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা আসেন,এবং এরপর ভূট্টো তার সাথে যোগ দেন। আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা না হস্তান্তরের উদ্দেশ্য (পশ্চিম পাকিস্তানি শাষক গোষ্ঠীর ভয় ছিল যে ক্ষমতা পূর্বে হস্তান্তরিত হলে পশ্চিমে পাকিস্তান পিপলস পার্টির কর্তৃত্ব হ্রাস পাবে)পাকিস্তানি জেনারেলরা,( যাদের মধ্যে [[গুল হাসান]] ছিলেন অগ্রগামী) পিপিপি কে সমর্থন যোগাতে থাকে যার ফলাফল দাঁড়ায় সেনা আক্রমণ<ref name="Siddiq_p48-51">Salik, Siddiq, Witness To Surrender, p48-51 id = {{আইএসবিএন|984-05-1373-7}}</ref>। | ||
সুখরঞ্জন দাসগুপ্ত তার "মিডনাইট ম্যাসাকার ইন ঢাকা" বইয়ে বলেছেন, [[তাজউদ্দীন আহমেদ]] স্বাধীনতার পর তাঁকে অপারেশন সার্চলাইটের কারণ হিসেবে বলেন, মুজিবসহ আওয়ামী লীগের পঞ্চপ্রধান একটা পরিকল্পনা করেছিল যে, যেহেতু পাকিস্তানের মধ্যেই নির্বাচনে তারা ক্ষমতা দখল করতে পারবে বলে জানতো, তাই প্রথমে তারা তাই করার সিদ্ধান্ত নিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী [[শেখ মুজিবুর রহমান]] মন্ত্রিসভায় থাকতে চাইবেন না। সৈয়দ নজরুল ([[সৈয়দ নজরুল ইসলাম]] হবেন প্রধানমন্ত্রী, তাজউদদীন হবেন স্বরষ্ট্রমন্ত্রী, খোন্দকারকে ([[মোশতাক আহমেদ]]) পার্লামেন্টের স্পীকার করে দেওয়া হবে, তারপর এক সময় প্রধানমন্ত্রীরূপে সৈয়দ নজরুল পূর্ব পাকিস্তান থেকে পাকিস্তানি সৈন্যবাহিনী সরিয়ে আনার হুকুম করবেন ও তাজউদ্দীন সে-হুকুম তামিল করবেন। এই কাজটি হওয়ার পর, জাতির পিতা হিসেবে শেখ মুজিব ঢাকায় জাতীয় পার্লামেন্টের অধিবেশন ডাকবেন, সেখানে তিনিই স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির প্রস্তাব তুলবেন। সে প্রস্তাব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে জন্ম নেবে সার্বভৌম বাংলাদেশ; তবে ভুট্টো এই পরিকল্পনার আভাস পেয়ে যান, যাকে খোন্দকার মোশতাক আহমেদ বিষয়টি জানিয়ে দেন। আর সেই জন্যই পচিশ মার্চ পাকিস্তানি সৈন্যবাহিনী ভুট্টোর নির্দেশে অপারেশন সার্চলাইটের আক্রমণ চালায়।<ref>{{বই উদ্ধৃতি |শেষাংশ1=Dāśagupta |প্রথমাংশ1=Sukharañjana |শিরোনাম=Mujiba hatyāra shaṛayantra |তারিখ=July | সুখরঞ্জন দাসগুপ্ত তার "মিডনাইট ম্যাসাকার ইন ঢাকা" বইয়ে বলেছেন, [[তাজউদ্দীন আহমেদ]] স্বাধীনতার পর তাঁকে অপারেশন সার্চলাইটের কারণ হিসেবে বলেন, মুজিবসহ আওয়ামী লীগের পঞ্চপ্রধান একটা পরিকল্পনা করেছিল যে, যেহেতু পাকিস্তানের মধ্যেই নির্বাচনে তারা ক্ষমতা দখল করতে পারবে বলে জানতো, তাই প্রথমে তারা তাই করার সিদ্ধান্ত নিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী [[শেখ মুজিবুর রহমান]] মন্ত্রিসভায় থাকতে চাইবেন না। সৈয়দ নজরুল ([[সৈয়দ নজরুল ইসলাম]] হবেন প্রধানমন্ত্রী, তাজউদদীন হবেন স্বরষ্ট্রমন্ত্রী, খোন্দকারকে ([[মোশতাক আহমেদ]]) পার্লামেন্টের স্পীকার করে দেওয়া হবে, তারপর এক সময় প্রধানমন্ত্রীরূপে সৈয়দ নজরুল পূর্ব পাকিস্তান থেকে পাকিস্তানি সৈন্যবাহিনী সরিয়ে আনার হুকুম করবেন ও তাজউদ্দীন সে-হুকুম তামিল করবেন। এই কাজটি হওয়ার পর, জাতির পিতা হিসেবে শেখ মুজিব ঢাকায় জাতীয় পার্লামেন্টের অধিবেশন ডাকবেন, সেখানে তিনিই স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির প্রস্তাব তুলবেন। সে প্রস্তাব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে জন্ম নেবে সার্বভৌম বাংলাদেশ; তবে ভুট্টো এই পরিকল্পনার আভাস পেয়ে যান, যাকে খোন্দকার মোশতাক আহমেদ বিষয়টি জানিয়ে দেন। আর সেই জন্যই পচিশ মার্চ পাকিস্তানি সৈন্যবাহিনী ভুট্টোর নির্দেশে অপারেশন সার্চলাইটের আক্রমণ চালায়।<ref>{{বই উদ্ধৃতি |শেষাংশ1=Dāśagupta |প্রথমাংশ1=Sukharañjana |শিরোনাম=Mujiba hatyāra shaṛayantra |তারিখ=July ২০১৯ |অবস্থান=Ḍhākā |আইএসবিএন=978-984-91335-2-0 |পাতা=৫৫ |সংস্করণ=Parimārjita dvitīẏa saṃskaraṇa |ইউআরএল=https://ia800805.us.archive.org/22/items/Mujib-Killing-Conspiracy/মুজিব%20হত্যার%20ষড়যন্ত্র%20-%20সুখরঞ্জন%20দাশগুপ্ত.pdf}}</ref> | ||
== অপারেশনের পরিকল্পনা == | == অপারেশনের পরিকল্পনা == | ||
| ৮৬ নং লাইন: | ৮৬ নং লাইন: | ||
=== পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি সেনাদের বিন্যাস === | === পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি সেনাদের বিন্যাস === | ||
[[চিত্র: | [[চিত্র:মার্চ71.PNG|320px|right|thumb|অপারেশন সার্চলাইটঃ ২৫ মার্চে পাকিস্তানি ও বাঙালি সৈন্যদের অবস্থান। কয়েকটি ইউনিটের অবস্থান দেখানো হয় নি।]] | ||
১৪তম পদাতিক ডিভিশনই পাকিস্তানি সেনাদের একমাত্র [[ডিভিশন]] যাদের পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৭১ এর মার্চে ঘাঁটি ছিল। যেখানে সাধারণ নিয়ম অণুযায়ি তিনটে [[ব্রিগেড]] থাকার কথা, সেখানে এই ডিভিশনে চারটি পদাতিক ব্রিগেড ছিল<ref>Shamsul Arefin, ASM, History, Standing of - - War of Liberation, p340 -p341</ref>। ৫৭তম পদাতিক বাহিনীকে(পশ্চিম পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার জাহানবাজ আরবাব এর অধীনে) ঢাকায়, ৫৩তম পদাতিক বাহিনীকে(পশ্চিম পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার ইকবাল শফির অধীনে) কুমিল্লায়, ২৩তম ব্রিগেডকে(পশ্চিম পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার আবদুল্লাহ খান মালিকের অধীনে) রংপুরে এবং ১০৭তম ব্রিগেডকে(পশ্চিম পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার এআর দুররানির অধীনে) যশোরে পাঠানো হয়। ব্রিগেডিয়ার [[মাহমুদুর রহমান মজুমদার|এম আর মজুমদার]] নামের একজন বাঙালি ব্রিগেডিয়ার ছিলেন চট্টগ্রামের কমান্ডে। সাধারণ ভাবে প্রতি ব্রিগেডে ৩ থেকে ৪টি পদাতিক [[ব্যটেলিয়ন]] ও একটি ফিল্ড আর্টিলারী রেজিমেন্ট এবং আরো কিছু সাহায্যকারী অংশ থাকে। | ১৪তম পদাতিক ডিভিশনই পাকিস্তানি সেনাদের একমাত্র [[ডিভিশন]] যাদের পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৭১ এর মার্চে ঘাঁটি ছিল। যেখানে সাধারণ নিয়ম অণুযায়ি তিনটে [[ব্রিগেড]] থাকার কথা, সেখানে এই ডিভিশনে চারটি পদাতিক ব্রিগেড ছিল<ref>Shamsul Arefin, ASM, History, Standing of - - War of Liberation, p340 -p341</ref>। ৫৭তম পদাতিক বাহিনীকে(পশ্চিম পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার জাহানবাজ আরবাব এর অধীনে) ঢাকায়, ৫৩তম পদাতিক বাহিনীকে(পশ্চিম পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার ইকবাল শফির অধীনে) কুমিল্লায়, ২৩তম ব্রিগেডকে(পশ্চিম পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার আবদুল্লাহ খান মালিকের অধীনে) রংপুরে এবং ১০৭তম ব্রিগেডকে(পশ্চিম পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার এআর দুররানির অধীনে) যশোরে পাঠানো হয়। ব্রিগেডিয়ার [[মাহমুদুর রহমান মজুমদার|এম আর মজুমদার]] নামের একজন বাঙালি ব্রিগেডিয়ার ছিলেন চট্টগ্রামের কমান্ডে। সাধারণ ভাবে প্রতি ব্রিগেডে ৩ থেকে ৪টি পদাতিক [[ব্যটেলিয়ন]] ও একটি ফিল্ড আর্টিলারী রেজিমেন্ট এবং আরো কিছু সাহায্যকারী অংশ থাকে। | ||