অরুণা আসফ আলী: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

>আফতাব বট
বানান ও অন্যান্য সংশোধন
 
রবি (আলোচনা | অবদান)
Text replacement - "February" to "ফেব্রুয়ারি"
 
(একই ব্যবহারকারী দ্বারা সম্পাদিত একটি মধ্যবর্তী সংশোধন দেখানো হচ্ছে না)
১৯ নং লাইন: ১৯ নং লাইন:
| footnotes          =  
| footnotes          =  
}}
}}
'''অরুণা আসফ আলী''' (১৯০৯-১৯৯৬) [[ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন|ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের]] সংগ্রামী ও একজন সমাজকর্মী ছিলেন। অরুণা আসফ আলীকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে ১৯৯১ সালে জওহরলাল নেহরু পুরস্কার প্রদান করা হয়<ref name="short">{{ওয়েব উদ্ধৃতি | ইউআরএল=http://www.preservearticles.com/201104235842/short-biography-of-aruna-asaf-ali.html | শিরোনাম=Short biography of Aruna Asaf Ali | প্রকাশক=Preservearticles.com | সংগ্রহের-তারিখ=February 11, 2013 | লেখক=Pratik Daga}}</ref>। ১৯৯৭ সালে [[ভারত সরকার]] তাকে দেশের সর্ব্বোচ্চ সম্মান [[ভারতরত্ন|ভারত-রত্ন]] উপাধিতে সম্মানিত করে আর ১৯৬৪ সালে তাকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় লেলিন শান্তি পুরস্কারে বিভূষিত করা হয়।<ref name="netzone">{{ওয়েব উদ্ধৃতি | ইউআরএল=http://www.indianetzone.com/3/aruna_asaf_ali.htm | শিরোনাম=Aruna Asaf Ali, Indian Freedom Fighter | প্রকাশক=Indianetzone.com | তারিখ=January 15, 2009 | সংগ্রহের-তারিখ=February 11, 2013}}</ref> সমাজে প্রগতি আর শান্তির চেষ্টার কারণে ১৯৫৫ সালে তাকে সোভিয়েট দেশে নেহরু  পুরস্কারে সম্মানিত করে। তিনি দিল্লী মহানগরের প্রথম মহিলা মেয়র ছিলেন। তিনি জাতীয় মহিলা ফেডারেশনের সভানেত্রীও ছিলেন। তিনি জাতীয় মহিলা কনফারেন্সের সাথে জড়িত থাকার কারণে দিল্লী কংগ্রেস কমিটীর সভানেত্রী  হন।<ref name="অরুণা আছফ আলী">{{বই উদ্ধৃতি | শিরোনাম=ভারত-রত্ন | প্রকাশক=অজয় কুমার দত্ত, ষ্টুডেণ্টচ্ ষ্ট'রচ্| লেখক=সমীন কলিতা | পাতাসমূহ=১২৩,১২৪}}</ref>
'''অরুণা আসফ আলী''' (১৯০৯-১৯৯৬) [[ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন|ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের]] সংগ্রামী ও একজন সমাজকর্মী ছিলেন। অরুণা আসফ আলীকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে ১৯৯১ সালে জওহরলাল নেহরু পুরস্কার প্রদান করা হয়<ref name="short">{{ওয়েব উদ্ধৃতি | ইউআরএল=http://www.preservearticles.com/201104235842/short-biography-of-aruna-asaf-ali.html | শিরোনাম=Short biography of Aruna Asaf Ali | প্রকাশক=Preservearticles.com | সংগ্রহের-তারিখ=ফেব্রুয়ারি 11, 2013 | লেখক=Pratik Daga}}</ref>। ১৯৯৭ সালে [[ভারত সরকার]] তাকে দেশের সর্ব্বোচ্চ সম্মান [[ভারতরত্ন|ভারত-রত্ন]] উপাধিতে সম্মানিত করে আর ১৯৬৪ সালে তাকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় লেলিন শান্তি পুরস্কারে বিভূষিত করা হয়।<ref name="netzone">{{ওয়েব উদ্ধৃতি | ইউআরএল=http://www.indianetzone.com/3/aruna_asaf_ali.htm | শিরোনাম=Aruna Asaf Ali, Indian Freedom Fighter | প্রকাশক=Indianetzone.com | তারিখ=জানুয়ারি 15, 2009 | সংগ্রহের-তারিখ=ফেব্রুয়ারি 11, 2013}}</ref> সমাজে প্রগতি আর শান্তির চেষ্টার কারণে ১৯৫৫ সালে তাকে সোভিয়েট দেশে নেহরু  পুরস্কারে সম্মানিত করে। তিনি দিল্লী মহানগরের প্রথম মহিলা মেয়র ছিলেন। তিনি জাতীয় মহিলা ফেডারেশনের সভানেত্রীও ছিলেন। তিনি জাতীয় মহিলা কনফারেন্সের সাথে জড়িত থাকার কারণে দিল্লী কংগ্রেস কমিটীর সভানেত্রী  হন।<ref name="অরুণা আছফ আলী">{{বই উদ্ধৃতি | শিরোনাম=ভারত-রত্ন | প্রকাশক=অজয় কুমার দত্ত, ষ্টুডেণ্টচ্ ষ্ট'রচ্| লেখক=সমীন কলিতা | পাতাসমূহ=১২৩,১২৪}}</ref>


==জন্ম আর পরিবার==
==জন্ম আর পরিবার==
২৫ নং লাইন: ২৫ নং লাইন:


==সংগ্রামী জীবন==
==সংগ্রামী জীবন==
১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট  নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটি  ভারত ছাড়ো প্রস্তাব গ্রহণ করলে অরুণা আসফ আলী দেশবাসীকে এই শেষ সংগ্রামটিতে অংশগ্রহণ করতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই খবর পাওয়ার সাথে সাথে [[ব্রিটিশ সরকার]] [[মহাত্মা গান্ধী]], [[জওহরলাল নেহরু]] প্রমুখ দেশনেতাদের গ্রেপ্তার করার সাথে সাথে চারিদিকে  বিদ্রোহ আরম্ভ হয়। দেশের জনতা রাজপথে বেরিয়ে এসে বন্দে মাতরম, মহাত্মা গান্ধী কী জয়, ব্রিটিশ ভারত ছাড়ো ধ্বনিতে আকাশ কাঁপিয়ে তোলে। তারপর বহু নেতা আত্মগোপন করেন। আত্ম গোপন করা সকলের ভিতরে  ছিলেন- [[জয়প্রকাশ নারায়ণ]], [[রাম মনোহর লোহিয়া]], অচ্যুৎ পট্টবর্ধন, অরুণা আসফ আলী আদি।<ref name="loveindia">{{ওয়েব উদ্ধৃতি | ইউআরএল=http://www.iloveindia.com/indian-heroes/aruna-asaf-ali.html | শিরোনাম=Aruna Asaf Ali Biography | প্রকাশক=Iloveindia.com | সংগ্রহের-তারিখ=February 11, 2013}}</ref> আত্মগোপনকারী সকলেই কিছু সংখ্যক  সন্ত্রাসমূলক কাজে লিপ্ত হন। এই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ২৭০ টা রেল স্টেশন, ৫৫০ টা পোষ্ট অফিস, ৭০ টা পুলিশ স্টেশন, এবং ৮৫ টা অন্যান্য সরকারি আবাসগৃহের ক্ষতি সাধন করেন। অনেক জায়গায়  রেল লাইন, টেলিফোন, টেলিগ্রাফ লাইন সংযোগহীন করে দেওয়া হয়। সেই সময় [[আসাম|অসমের]] সড়কপথ আর জলপথে রেল বগির উপরে আর উড়োজাহাজ ঘাঁটিতে অগ্নি সংযোগ করা হয়। সেই সময়ে অসমে আত্ম গোপন করা সকলের ভিতরে  ছিলেন-শঙ্কর বরুয়া, জ্যোতিপ্রসাদ, ব্রজ শর্মা, লক্ষ্মীপ্রসাদ গোস্বামী, গহণ চন্দ্র গোস্বামী আদি। অরুণা আসফ আলী আত্ম গোপন করেন [[সাতারা]], [[বালিয়া]], [[নাগপুর]] আদি জায়গায় ঘুরে সেইসব জায়গায় সমান্তরাল সরকার গঠন করার চেষ্টায় । অরুণা আসফ আলী অসমেও আসেন আর অসমে সন্ত্রাসবাদী কার্য করার পরামর্শ দেন।
১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট  নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটি  ভারত ছাড়ো প্রস্তাব গ্রহণ করলে অরুণা আসফ আলী দেশবাসীকে এই শেষ সংগ্রামটিতে অংশগ্রহণ করতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই খবর পাওয়ার সাথে সাথে [[ব্রিটিশ সরকার]] [[মহাত্মা গান্ধী]], [[জওহরলাল নেহরু]] প্রমুখ দেশনেতাদের গ্রেপ্তার করার সাথে সাথে চারিদিকে  বিদ্রোহ আরম্ভ হয়। দেশের জনতা রাজপথে বেরিয়ে এসে বন্দে মাতরম, মহাত্মা গান্ধী কী জয়, ব্রিটিশ ভারত ছাড়ো ধ্বনিতে আকাশ কাঁপিয়ে তোলে। তারপর বহু নেতা আত্মগোপন করেন। আত্ম গোপন করা সকলের ভিতরে  ছিলেন- [[জয়প্রকাশ নারায়ণ]], [[রাম মনোহর লোহিয়া]], অচ্যুৎ পট্টবর্ধন, অরুণা আসফ আলী আদি।<ref name="loveindia">{{ওয়েব উদ্ধৃতি | ইউআরএল=http://www.iloveindia.com/indian-heroes/aruna-asaf-ali.html | শিরোনাম=Aruna Asaf Ali Biography | প্রকাশক=Iloveindia.com | সংগ্রহের-তারিখ=ফেব্রুয়ারি 11, 2013}}</ref> আত্মগোপনকারী সকলেই কিছু সংখ্যক  সন্ত্রাসমূলক কাজে লিপ্ত হন। এই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ২৭০ টা রেল স্টেশন, ৫৫০ টা পোষ্ট অফিস, ৭০ টা পুলিশ স্টেশন, এবং ৮৫ টা অন্যান্য সরকারি আবাসগৃহের ক্ষতি সাধন করেন। অনেক জায়গায়  রেল লাইন, টেলিফোন, টেলিগ্রাফ লাইন সংযোগহীন করে দেওয়া হয়। সেই সময় [[আসাম|অসমের]] সড়কপথ আর জলপথে রেল বগির উপরে আর উড়োজাহাজ ঘাঁটিতে অগ্নি সংযোগ করা হয়। সেই সময়ে অসমে আত্ম গোপন করা সকলের ভিতরে  ছিলেন-শঙ্কর বরুয়া, জ্যোতিপ্রসাদ, ব্রজ শর্মা, লক্ষ্মীপ্রসাদ গোস্বামী, গহণ চন্দ্র গোস্বামী আদি। অরুণা আসফ আলী আত্ম গোপন করেন [[সাতারা]], [[বালিয়া]], [[নাগপুর]] আদি জায়গায় ঘুরে সেইসব জায়গায় সমান্তরাল সরকার গঠন করার চেষ্টায় । অরুণা আসফ আলী অসমেও আসেন আর অসমে সন্ত্রাসবাদী কার্য করার পরামর্শ দেন।


অরুণা আসফ আলী ছিলেন মুক্তি সংগ্রামের পুরোধা। বিশেষ করে বিয়াল্লিশের আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। অরুণা আসফ আলী ৯ আগস্ট বোম্বাই ([[মুম্বাই]]) গোয়ালিয়া টেংক ময়দানে ইউনিয়ন জেক নামিয়ে এনে তার জায়গায় ত্রিরঙা পতাকা উড়িয়ে সংগ্রামী সকলের মাঝে উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলেন।<ref name="loveindia"/> তাকে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে কয়েকবার জেলে যেতে হয়েছিল। পরে তিনি কংগ্রেসের প্রতি আস্থা হারিয়ে জাতীয় কংগ্রেস ত্যাগ করে সোসিয়ালিস্ট দলে যোগদান করেন। ভারত স্বাধীনতা লাভ করার পর, তিনি  গরিব জনসাধারণের সাথে মিলে কাজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সমাজে প্রগতি আর শান্তি আনতে তার প্রচেষ্টার কারণে ১৯৫৫ সালে তাকে সোভিয়েট দেশ নেহরু পুরস্কারে সম্মানিত করে। তিনি দিল্লী মহানগরের প্রথম মহিলা মেয়র হন যদিও কিছুদিন পরে সেই পদবী ত্যাগ করেন। তিনি জাতীয় মহিলা ফেডারেশনের সভামন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। তিনি জাতীয় মহিলা কনফারেন্সের সাথেও জড়িত হয়ে পড়েছিলেন।<ref name="অরুণা আছফ আলী"/>
অরুণা আসফ আলী ছিলেন মুক্তি সংগ্রামের পুরোধা। বিশেষ করে বিয়াল্লিশের আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। অরুণা আসফ আলী ৯ আগস্ট বোম্বাই ([[মুম্বাই]]) গোয়ালিয়া টেংক ময়দানে ইউনিয়ন জেক নামিয়ে এনে তার জায়গায় ত্রিরঙা পতাকা উড়িয়ে সংগ্রামী সকলের মাঝে উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলেন।<ref name="loveindia"/> তাকে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে কয়েকবার জেলে যেতে হয়েছিল। পরে তিনি কংগ্রেসের প্রতি আস্থা হারিয়ে জাতীয় কংগ্রেস ত্যাগ করে সোসিয়ালিস্ট দলে যোগদান করেন। ভারত স্বাধীনতা লাভ করার পর, তিনি  গরিব জনসাধারণের সাথে মিলে কাজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সমাজে প্রগতি আর শান্তি আনতে তার প্রচেষ্টার কারণে ১৯৫৫ সালে তাকে সোভিয়েট দেশ নেহরু পুরস্কারে সম্মানিত করে। তিনি দিল্লী মহানগরের প্রথম মহিলা মেয়র হন যদিও কিছুদিন পরে সেই পদবী ত্যাগ করেন। তিনি জাতীয় মহিলা ফেডারেশনের সভামন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। তিনি জাতীয় মহিলা কনফারেন্সের সাথেও জড়িত হয়ে পড়েছিলেন।<ref name="অরুণা আছফ আলী"/>