অং সান সু চি: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

ReplacementBOT (আলোচনা | অবদান)
Text replacement - "{{কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণ}}" to ""
>Sourav
পরিস্কার
 
৬৯ নং লাইন: ৬৯ নং লাইন:
'''অং সান সু চি''' ({{lang-my|အောင်ဆန်းစုကြည်}}, {{IPA-my|àʊɴ sʰáɴ sṵ tɕì|pron}} ''ঔঁ(অ) সাঁ সূ চী''; জন্ম ১৯ জুন ১৯৪৫) একজন [[মিয়ানমার|বর্মী]] রাজনীতিক, কূটনীতিক, এবং লেখিকা যিনি মিয়ানমারের প্রথম ও বর্তমান রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা এবং [[ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি]]র নেত্রী। মিয়ানমারের ''[[দে ফ্যাক্তো|ডি ফ্যাক্টো]]'' তথা অনানুষ্ঠানিক প্রধান হিসেবেই তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত।<ref>http://www.bbc.com/news/uk-41139319</ref> এছাড়াও প্রথম নারী হিসেবে তিনি মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের মন্ত্রী, বিদ্যুৎশক্তি ও ক্ষমতা বিষয়ক মন্ত্রী, এবং শিক্ষা মন্ত্রী হিসেবে প্রেসিডেন্ট তিন চওয়ের কেবিনেটে কাজ করেন; আর ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি মিয়ানমারের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস তথা নিম্নকক্ষে কৌমু টাউনশিপের [[এমপি]] ছিলেন।
'''অং সান সু চি''' ({{lang-my|အောင်ဆန်းစုကြည်}}, {{IPA-my|àʊɴ sʰáɴ sṵ tɕì|pron}} ''ঔঁ(অ) সাঁ সূ চী''; জন্ম ১৯ জুন ১৯৪৫) একজন [[মিয়ানমার|বর্মী]] রাজনীতিক, কূটনীতিক, এবং লেখিকা যিনি মিয়ানমারের প্রথম ও বর্তমান রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা এবং [[ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি]]র নেত্রী। মিয়ানমারের ''[[দে ফ্যাক্তো|ডি ফ্যাক্টো]]'' তথা অনানুষ্ঠানিক প্রধান হিসেবেই তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত।<ref>http://www.bbc.com/news/uk-41139319</ref> এছাড়াও প্রথম নারী হিসেবে তিনি মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের মন্ত্রী, বিদ্যুৎশক্তি ও ক্ষমতা বিষয়ক মন্ত্রী, এবং শিক্ষা মন্ত্রী হিসেবে প্রেসিডেন্ট তিন চওয়ের কেবিনেটে কাজ করেন; আর ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি মিয়ানমারের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস তথা নিম্নকক্ষে কৌমু টাউনশিপের [[এমপি]] ছিলেন।


আধুনিক মিয়ানমারের [[জাতির জনক]] [[অং সান]] এবং খিন চী এর কন্যা সু চি এর জন্ম হয় [[বার্মায় ব্রিটিশ শাসন|ব্রিটিশ বার্মার]] [[রেঙ্গুন|রেঙ্গুনে]]১৯৬৪ সালে [[দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়]] ও ১৯৬৮-তে [[অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়]] হতে স্নাতক অর্জন করার পর তিনি [[জাতিসংঘ|জাতিসংঘে]] তিন বছর কাজ করেন। ১৯৭২ সালে মাইকেল অ্যারিসকে বিয়ে করেন এবং তাদের দুই ছেলে হয়। [[৮৮৮৮ গণ অভ্যুত্থান|১৯৮৮-র গণ আন্দোলনের সময়]] সু চি সবার নজর কাড়েন এবং [[ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি]]র (এনএলডি) সাধারণ সম্পাদক হন; সেসময় সদ্যগঠিত দলটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সামরিক জান্তার বিরোধী অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা। ১৯৯০ সালের নির্বাচনে এনএলডি সংসদের ৮১% আসন পেলেও সেনাবাহিনী ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায় যা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে হৈ চৈ ফেলে দেয়। এদিকে নির্বাচনের আগে থেকেই সু চি-কে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। ১৯৮৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ২১ বছরের মধ্যে ১৫ বছরই তাকে গৃহবন্দী অবস্থায় কাটাতে হয়; ততদিনে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে প্রখ্যাত রাজবন্দীদের একজন হয়ে উঠেছেন।
আধুনিক মিয়ানমারের [[জাতির জনক]] [[অং সান]] এবং খিন চী এর কন্যা সু চি এর জন্ম হয় [[বার্মায় ব্রিটিশ শাসন|ব্রিটিশ বার্মার]] [[রেঙ্গুন]]ে। ১৯৬৪ সালে [[দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়]] ও ১৯৬৮-তে [[অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়]] হতে স্নাতক অর্জন করার পর তিনি [[জাতিসংঘ]]তিন বছর কাজ করেন। ১৯৭২ সালে মাইকেল অ্যারিসকে বিয়ে করেন এবং তাদের দুই ছেলে হয়। [[৮৮৮৮ গণ অভ্যুত্থান|১৯৮৮-র গণ আন্দোলনের সময়]] সু চি সবার নজর কাড়েন এবং [[ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি]]র (এনএলডি) সাধারণ সম্পাদক হন; সেসময় সদ্যগঠিত দলটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সামরিক জান্তার বিরোধী অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা। ১৯৯০ সালের নির্বাচনে এনএলডি সংসদের ৮১% আসন পেলেও সেনাবাহিনী ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায় যা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে হৈ চৈ ফেলে দেয়। এদিকে নির্বাচনের আগে থেকেই সু চি-কে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। ১৯৮৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ২১ বছরের মধ্যে ১৫ বছরই তাকে গৃহবন্দী অবস্থায় কাটাতে হয়; ততদিনে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে প্রখ্যাত রাজবন্দীদের একজন হয়ে উঠেছেন।


সু চির দল ২০১০ সালের নির্বাচন বয়কট করে, যা সেনাসমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে তাৎপর্যপূর্ণ বিজয় এনে দেয়। ২০১২ সালের উপনির্বাচনে সু চি সংসদের নিম্নকক্ষের [[এমপি]] হন এবং তার দল ৪৫টি ফাঁকা আসনের মধ্যে ৪৩টিতে জয়লাভ করে। ২০১৫ সালের জাতীয় নির্বাচনে তার দল [[ভূমিধস|ভূমিধ্বস]] বিজয় অর্জন করে, অ্যাসেমব্লি অফ দ্য ইউনিয়নের (সংসদ) ৮৬% আসন অর্জন করে; যদিও প্রেসিডেনশিয়াল ইলেকটোরাল কলেজে তাদের প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি ও দ্বিতীয় উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচনের জন্য ৬৭% সংখ্যাগরিষ্ঠতাই যথেষ্ট ছিল। সু চি-র প্রয়াত স্বামী ও সন্তানেরা বিদেশি নাগরিক হওয়ায় সংবিধান অনুসারে তিনি রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না; তাই তিনি নবপ্রতিষ্ঠিত [[মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা|রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা]] পদটি গ্রহণ করেন যা কিনা মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী বা সরকারপ্রধানের সমান।  
সু চির দল ২০১০ সালের নির্বাচন বয়কট করে, যা সেনাসমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে তাৎপর্যপূর্ণ বিজয় এনে দেয়। ২০১২ সালের উপনির্বাচনে সু চি সংসদের নিম্নকক্ষের [[এমপি]] হন এবং তার দল ৪৫টি ফাঁকা আসনের মধ্যে ৪৩টিতে জয়লাভ করে। ২০১৫ সালের জাতীয় নির্বাচনে তার দল [[ভূমিধস|ভূমিধ্বস]] বিজয় অর্জন করে, অ্যাসেমব্লি অফ দ্য ইউনিয়নের (সংসদ) ৮৬% আসন অর্জন করে; যদিও প্রেসিডেনশিয়াল ইলেকটোরাল কলেজে তাদের প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি ও দ্বিতীয় উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচনের জন্য ৬৭% সংখ্যাগরিষ্ঠতাই যথেষ্ট ছিল। সু চি-র প্রয়াত স্বামী ও সন্তানেরা বিদেশি নাগরিক হওয়ায় সংবিধান অনুসারে তিনি রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না; তাই তিনি নবপ্রতিষ্ঠিত [[মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা|রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা]] পদটি গ্রহণ করেন যা কিনা মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী বা সরকারপ্রধানের সমান।  
৮৫ নং লাইন: ৮৫ নং লাইন:
== জীবনী ==
== জীবনী ==
[[চিত্র:Khin Kyi and family.jpg|থাম্ব|ডান|250px|1948 সালে খিন চি ও তার পরিবারের একটি ছবি। অং সান সু চি মেঝেতে বসে।]]
[[চিত্র:Khin Kyi and family.jpg|থাম্ব|ডান|250px|1948 সালে খিন চি ও তার পরিবারের একটি ছবি। অং সান সু চি মেঝেতে বসে।]]
অং সান সু চি ১৯৪৫ সালের [[১৯ জুন|১৯শে জুন]] ব্রিটিশ বার্মার রেঙ্গুনে (বর্তমান [[ইয়াঙ্গুন]]) জন্মগ্রহণ করেন। পিটার পপহ্যামের বর্ণনানুসারে, তিনি রেঙ্গুনের বাইরে হামওয়ে সাউং নামক একটি ছোটো গ্রামে জন্ম নেন।<ref name="Popham">{{বই উদ্ধৃতি |শেষাংশ=Popham |প্রথমাংশ=Peter |তারিখ=April 2013 |শিরোনাম=The Lady and the Peacock: The Life of Aung San Suu Kyi |ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=yCL1drLmsmQC&pg=PA163&lpg=PA163&dq=%22hmway+saung%22#v=onepage&q=%22hmway%20saung%22&f=false |অবস্থান=New York, NY |প্রকাশক=The Experiment, LLC |পাতা=163 |আইএসবিএন=978-1-61519-081-2}}</ref> তার বাবা [[অং সান]] সেসময় আধুনিক বর্মী সেনাবাহিনী গঠন করেন এবং আলাপ-আলোচনা করে [[ব্রিটিশ সাম্রাজ্য|ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের]] থেকে বার্মাকে স্বাধীন করেন; কিন্তু ঐ বছরই তিনি বিপক্ষদের গুপ্তহত্যার শিকার হন। সু চি তার মা খিন চি এবং দুই ভাই অং সান লিন ও অং সান ও-এর সাথে রেঙ্গুনে বড়ো হন। অং সান লিন আট বছর বয়সে বাড়ির শোভাবর্ধক হ্রদে ডুবে গিয়ে মারা যায়।<ref name="Nobel.org" /> অং সান ও পরে আমেরিকার নাগরিকত্ব নিয়ে [[ক্যালিফোর্নিয়া]]র [[সান ডিয়েগো]]তে প্রবাসী হন।<ref name="Nobel.org" /> অং সান লিনের মৃত্যুর পর তাদের পরিবার বাসাবদল করে ইনয়া লেকের কাছে ৫৪ ইউনিভার্সিটি এভিনিউয়ের এক বাড়িতে চলে আসে; সু চি এখানে এসে বহুরকম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, রাজনৈতিক মতাদর্শী ও ধর্মানুসারীদের সাথে পরিচিত হন।<ref>Stewart (1997), p. 31</ref> বার্মার শৈশব জীবনে তিনি মেথডিস্ট ইংলিশ হাইস্কুলেই (এখন বেসিক এডুকেশন হাইস্কুল নং ১ ডাগন) বেশি সময় পড়েছেন; সেখানে বিভিন্ন ভাষা শেখার দক্ষতার কারণে তিনি সুপরিচিত ছিলেন।<ref>Stewart (1997), p. 32</ref> তিনি চারটি ভাষায় কথা বলতে পারেন: বর্মী, ইংরেজি, ফরাসী ও জাপানি।<ref>Aung San Suu Kyi: A Biography, p. 142</ref> ধর্মীয় বিশ্বাসে তিনি [[থেরবাদ|থেরবাদী বৌদ্ধ]]।
অং সান সু চি ১৯৪৫ সালের [[১৯ জুন|১৯শে জুন]] ব্রিটিশ বার্মার রেঙ্গুনে (বর্তমান [[ইয়াঙ্গুন]]) জন্মগ্রহণ করেন। পিটার পপহ্যামের বর্ণনানুসারে, তিনি রেঙ্গুনের বাইরে হামওয়ে সাউং নামক একটি ছোটো গ্রামে জন্ম নেন।<ref name="Popham">{{বই উদ্ধৃতি |শেষাংশ=Popham |প্রথমাংশ=Peter |তারিখ=April 2013 |শিরোনাম=The Lady and the Peacock: The Life of Aung San Suu Kyi |ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=yCL1drLmsmQC&pg=PA163&lpg=PA163&dq=%22hmway+saung%22#v=onepage&q=%22hmway%20saung%22&f=false |অবস্থান=New York, NY |প্রকাশক=The Experiment, LLC |পাতা=163 |আইএসবিএন=978-1-61519-081-2}}</ref> তার বাবা [[অং সান]] সেসময় আধুনিক বর্মী সেনাবাহিনী গঠন করেন এবং আলাপ-আলোচনা করে [[ব্রিটিশ সাম্রাজ্য]]ের থেকে বার্মাকে স্বাধীন করেন; কিন্তু ঐ বছরই তিনি বিপক্ষদের গুপ্তহত্যার শিকার হন। সু চি তার মা খিন চি এবং দুই ভাই অং সান লিন ও অং সান ও-এর সাথে রেঙ্গুনে বড়ো হন। অং সান লিন আট বছর বয়সে বাড়ির শোভাবর্ধক হ্রদে ডুবে গিয়ে মারা যায়।<ref name="Nobel.org" /> অং সান ও পরে আমেরিকার নাগরিকত্ব নিয়ে [[ক্যালিফোর্নিয়া]]র [[সান ডিয়েগো]]তে প্রবাসী হন।<ref name="Nobel.org" /> অং সান লিনের মৃত্যুর পর তাদের পরিবার বাসাবদল করে ইনয়া লেকের কাছে ৫৪ ইউনিভার্সিটি এভিনিউয়ের এক বাড়িতে চলে আসে; সু চি এখানে এসে বহুরকম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, রাজনৈতিক মতাদর্শী ও ধর্মানুসারীদের সাথে পরিচিত হন।<ref>Stewart (1997), p. 31</ref> বার্মার শৈশব জীবনে তিনি মেথডিস্ট ইংলিশ হাইস্কুলেই (এখন বেসিক এডুকেশন হাইস্কুল নং ১ ডাগন) বেশি সময় পড়েছেন; সেখানে বিভিন্ন ভাষা শেখার দক্ষতার কারণে তিনি সুপরিচিত ছিলেন।<ref>Stewart (1997), p. 32</ref> তিনি চারটি ভাষায় কথা বলতে পারেন: বর্মী, ইংরেজি, ফরাসী ও জাপানি।<ref>Aung San Suu Kyi: A Biography, p. 142</ref> ধর্মীয় বিশ্বাসে তিনি [[থেরবাদ|থেরবাদী বৌদ্ধ]]।


[[চিত্র:Aung San Suu Kyi 1951.jpg|থাম্ব|ডান|369x369px|৬ বছর বয়সে অং সান সু চি]]
[[চিত্র:Aung San Suu Kyi 1951.jpg|থাম্ব|ডান|369x369px|৬ বছর বয়সে অং সান সু চি]]
সু চির মা খিন চি নবগঠিত বর্মী সরকারে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন। ১৯৬০ সালে তাকে ভারত ও [[নেপাল|নেপালে]] বর্মী রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব দেয়া হয়, সু চিকেও তিনি সাথে নিয়ে যান। [[নয়াদিল্লি]]তে কনভেন্ট অফ জেসাস অ্যান্ড মেরি স্কুলে সু চি পড়াশোনা করেন, পরে ১৯৬৪ সালে [[দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়|দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের]] অধীনে লেডী শ্রী রাম কলেজ থেকে রাজনীতি বিষয়ে ডিগ্রি পাশ করেন।<ref name="azjarp">[http://www.burmacampaign.org.uk/index.php/burma/about-burma/about-burma/a-biography-of-aung-san-suu-kyi A biography of Aung San Suu Kyi] {{ওয়েব আর্কাইভ|ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20121205085614/http://www.burmacampaign.org.uk/index.php/burma/about-burma/about-burma/a-biography-of-aung-san-suu-kyi |তারিখ=৫ ডিসেম্বর ২০১২ }}. Burma Campaign.co.uk. Retrieved 7 May 2009.</ref><ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল= http://nobelprize.org/peace/laureates/1991/kyi-bio.html |শিরোনাম=Aung San Suu Kyi&nbsp;– Biography |প্রকাশক=Nobel Foundation |সংগ্রহের-তারিখ=4 May 2006| আর্কাইভের-ইউআরএল= https://web.archive.org/web/20060428181740/http://nobelprize.org/peace/laureates/1991/kyi-bio.html| আর্কাইভের-তারিখ= 28 April 2006 | অকার্যকর-ইউআরএল= no}}</ref> এরপর ১৯৬৭-তে অক্সফোর্ডের সেন্ট হাগস কলেজ থেকে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে বি.এ. ডিগ্রি নেন;<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.nobelprize.org/nobel_prizes/peace/laureates/1991/kyi-bio.html|শিরোনাম=Aung San Suu Kyi - Biographical|শেষাংশ=|প্রথমাংশ=|তারিখ=1991|ওয়েবসাইট=|প্রকাশক=The Nobel Foundation|সংগ্রহের-তারিখ=27 মার্চ 2016}}</ref> এবং তার তৃতীয়<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://business-standard.com/india/news/much-warmth-some-restraint-at-manmohans-meetingsuu-kyi/475788/|শিরোনাম=Much warmth, some restraint at Manmohan's meeting with Suu Kyi|শেষাংশ=[[Phadnis]]|প্রথমাংশ=[[Aditi]] |তারিখ=30 May 2012|ওয়েবসাইট=Business Standard|প্রকাশক=|সংগ্রহের-তারিখ=27 মার্চ 2016}}</ref><ref>{{সাময়িকী উদ্ধৃতি|শেষাংশ=Popham|প্রথমাংশ=Peter|তারিখ=2012|শিরোনাম=Aung San Suu Kyi|ইউআরএল=http://www.st-hughs.ox.ac.uk/wp-content/uploads/2014/12/St-Hughs-Magazine-2012.pdf|সাময়িকী=St. Hughs College Magazine|ডিওআই=|pmid=|সংগ্রহের-তারিখ=27 মার্চ 2016}}</ref><ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://factsanddetails.com/southeast-asia/Myanmar/sub5_5b/entry-3015.html|শিরোনাম=AUNG SAN SUU KYI: HER EARLY LIFE, FAMILY AND CHARACTER|শেষাংশ=|প্রথমাংশ=|তারিখ=May 2014|প্রকৃত-বছর=2008 Jeffrey Hays, last updated May 2014.|ওয়েবসাইট=Facts and Details|প্রকাশক=|সংগ্রহের-তারিখ=27 মার্চ 2016}}</ref> ডিগ্রি এম.এ. অর্জন করেন রাজনীতি বিষয়ে। স্নাতক পাশের পর তিনি নিউ ইয়র্কে তাদের পারিবারিক বন্ধু ও একসময়ের জনপ্রিয় বর্মী পপ-গায়িকা মা থান ইয়ের সাথে বসবাস করতে থাকেন।<ref name=bstandard>{{ওয়েব উদ্ধৃতি |লেখক=[[Aditi Phadnis]] |শিরোনাম=Much warmth, some restraint at Manmohan's meeting with Suu Kyi |ইউআরএল=http://business-standard.com/india/news/much-warmth-some-restraint-at-manmohans-meetingsuu-kyi/475788/|কর্ম=[[Business Standard]]|সংগ্রহের-তারিখ=30 May 2012}}</ref> এসময় তিন বছর তিনি জাতিসংঘে কাজ করেন, প্রধানত বাজেট ক্ষেত্রে এবং তার ভবিষ্যত স্বামী ড. মাইকেল অ্যারিসকে নিয়মিত চিঠি লিখতেন।<ref>Staff reporter (18 জুন 2009). [https://www.theguardian.com/world/2009/jun/18/aung-san-suu-kyi-burma-photograph Before the storm: Aung San Suu Kyi photograph peels back the years]. ''[[The Guardian]]''.</ref> ১৯৭২ সালের ১লা জুনে সু চি এবং অ্যারিস, ভুটানে বসবাসরত তিব্বতি সংস্কৃতি বিষয়ের পণ্ডিত গবেষক, বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।<ref name = "azjarp" /><ref name="marry">{{ওয়েব উদ্ধৃতি | ইউআরএল=https://www.nobelprize.org/nobel_prizes/peace/laureates/1991/kyi-bio.html | শিরোনাম=Aung San Suu Kyi – Biographical | প্রকাশক=Nobelprize.org |বছর=1999 | সংগ্রহের-তারিখ=29 November 2014 | লেখক=Irwin Abrams}}</ref> পরবর্তী বছর লন্ডনে তাদের প্রথম সন্তান আলেকজান্ডার অ্যারিসের জন্ম হয়; দ্বিতীয় সন্তান কিম জন্ম নেয় ১৯৭৭ সালে। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যে সু চি বর্মী সাহিত্য বিষয়ে এমফিল ডিগ্রি নেয়ার জন্য লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজে (SOAS/সোয়াস) গবেষণা শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা করছিলেন।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.thecompleteuniversityguide.co.uk/the-school-of-oriental-and-african-studies |শিরোনাম=The School of Oriental and African Studies, University of London |প্রকাশক=Complete University Guide |সংগ্রহের-তারিখ=28 November 2012}}</ref><ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.soasalumni.org/sslpage.aspx?pid=852 |শিরোনাম=SOAS alumna Aung San Suu Kyi calls for 'Peaceful Revolution' in Burma |প্রকাশক=SOAS Alumni |সংগ্রহের-তারিখ=28 November 2012}}</ref> ১৯৯০ সালে তিনি সোয়াস-এর একজন অনারারি ফেলো হিসেবে নির্বাচিত হন।<ref name="azjarp" /> দুবছরের জন্য তিনি ভারতের [[শিমলা]]য় অবস্থিত ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ অ্যাডভান্সড স্টাডিজের (IIAS) ফেলোও ছিলেন। এছাড়া ইউনিয়ন অফ বার্মা সরকারের জন্যও তিনি কাজ করেছেন।
সু চির মা খিন চি নবগঠিত বর্মী সরকারে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন। ১৯৬০ সালে তাকে ভারত ও [[নেপাল]]বর্মী রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব দেয়া হয়, সু চিকেও তিনি সাথে নিয়ে যান। [[নয়াদিল্লি]]তে কনভেন্ট অফ জেসাস অ্যান্ড মেরি স্কুলে সু চি পড়াশোনা করেন, পরে ১৯৬৪ সালে [[দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়]]ের অধীনে লেডী শ্রী রাম কলেজ থেকে রাজনীতি বিষয়ে ডিগ্রি পাশ করেন।<ref name="azjarp">[http://www.burmacampaign.org.uk/index.php/burma/about-burma/about-burma/a-biography-of-aung-san-suu-kyi A biography of Aung San Suu Kyi] {{ওয়েব আর্কাইভ|ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20121205085614/http://www.burmacampaign.org.uk/index.php/burma/about-burma/about-burma/a-biography-of-aung-san-suu-kyi |তারিখ=৫ ডিসেম্বর ২০১২ }}. Burma Campaign.co.uk. Retrieved 7 May 2009.</ref><ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল= http://nobelprize.org/peace/laureates/1991/kyi-bio.html |শিরোনাম=Aung San Suu Kyi&nbsp;– Biography |প্রকাশক=Nobel Foundation |সংগ্রহের-তারিখ=4 May 2006| আর্কাইভের-ইউআরএল= https://web.archive.org/web/20060428181740/http://nobelprize.org/peace/laureates/1991/kyi-bio.html| আর্কাইভের-তারিখ= 28 April 2006 | অকার্যকর-ইউআরএল= no}}</ref> এরপর ১৯৬৭-তে অক্সফোর্ডের সেন্ট হাগস কলেজ থেকে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে বি.এ. ডিগ্রি নেন;<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.nobelprize.org/nobel_prizes/peace/laureates/1991/kyi-bio.html|শিরোনাম=Aung San Suu Kyi - Biographical|শেষাংশ=|প্রথমাংশ=|তারিখ=1991|ওয়েবসাইট=|প্রকাশক=The Nobel Foundation|সংগ্রহের-তারিখ=27 মার্চ 2016}}</ref> এবং তার তৃতীয়<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://business-standard.com/india/news/much-warmth-some-restraint-at-manmohans-meetingsuu-kyi/475788/|শিরোনাম=Much warmth, some restraint at Manmohan's meeting with Suu Kyi|শেষাংশ=[[Phadnis]]|প্রথমাংশ=[[Aditi]] |তারিখ=30 May 2012|ওয়েবসাইট=Business Standard|প্রকাশক=|সংগ্রহের-তারিখ=27 মার্চ 2016}}</ref><ref>{{সাময়িকী উদ্ধৃতি|শেষাংশ=Popham|প্রথমাংশ=Peter|তারিখ=2012|শিরোনাম=Aung San Suu Kyi|ইউআরএল=http://www.st-hughs.ox.ac.uk/wp-content/uploads/2014/12/St-Hughs-Magazine-2012.pdf|সাময়িকী=St. Hughs College Magazine|ডিওআই=|pmid=|সংগ্রহের-তারিখ=27 মার্চ 2016}}</ref><ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://factsanddetails.com/southeast-asia/Myanmar/sub5_5b/entry-3015.html|শিরোনাম=AUNG SAN SUU KYI: HER EARLY LIFE, FAMILY AND CHARACTER|শেষাংশ=|প্রথমাংশ=|তারিখ=May 2014|প্রকৃত-বছর=2008 Jeffrey Hays, last updated May 2014.|ওয়েবসাইট=Facts and Details|প্রকাশক=|সংগ্রহের-তারিখ=27 মার্চ 2016}}</ref> ডিগ্রি এম.এ. অর্জন করেন রাজনীতি বিষয়ে। স্নাতক পাশের পর তিনি নিউ ইয়র্কে তাদের পারিবারিক বন্ধু ও একসময়ের জনপ্রিয় বর্মী পপ-গায়িকা মা থান ইয়ের সাথে বসবাস করতে থাকেন।<ref name=bstandard>{{ওয়েব উদ্ধৃতি |লেখক=[[Aditi Phadnis]] |শিরোনাম=Much warmth, some restraint at Manmohan's meeting with Suu Kyi |ইউআরএল=http://business-standard.com/india/news/much-warmth-some-restraint-at-manmohans-meetingsuu-kyi/475788/|কর্ম=[[Business Standard]]|সংগ্রহের-তারিখ=30 May 2012}}</ref> এসময় তিন বছর তিনি জাতিসংঘে কাজ করেন, প্রধানত বাজেট ক্ষেত্রে এবং তার ভবিষ্যত স্বামী ড. মাইকেল অ্যারিসকে নিয়মিত চিঠি লিখতেন।<ref>Staff reporter (18 জুন 2009). [https://www.theguardian.com/world/2009/jun/18/aung-san-suu-kyi-burma-photograph Before the storm: Aung San Suu Kyi photograph peels back the years]. ''[[The Guardian]]''.</ref> ১৯৭২ সালের ১লা জুনে সু চি এবং অ্যারিস, ভুটানে বসবাসরত তিব্বতি সংস্কৃতি বিষয়ের পণ্ডিত গবেষক, বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।<ref name = "azjarp" /><ref name="marry">{{ওয়েব উদ্ধৃতি | ইউআরএল=https://www.nobelprize.org/nobel_prizes/peace/laureates/1991/kyi-bio.html | শিরোনাম=Aung San Suu Kyi – Biographical | প্রকাশক=Nobelprize.org |বছর=1999 | সংগ্রহের-তারিখ=29 November 2014 | লেখক=Irwin Abrams}}</ref> পরবর্তী বছর লন্ডনে তাদের প্রথম সন্তান আলেকজান্ডার অ্যারিসের জন্ম হয়; দ্বিতীয় সন্তান কিম জন্ম নেয় ১৯৭৭ সালে। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যে সু চি বর্মী সাহিত্য বিষয়ে এমফিল ডিগ্রি নেয়ার জন্য লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজে (SOAS/সোয়াস) গবেষণা শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা করছিলেন।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.thecompleteuniversityguide.co.uk/the-school-of-oriental-and-african-studies |শিরোনাম=The School of Oriental and African Studies, University of London |প্রকাশক=Complete University Guide |সংগ্রহের-তারিখ=28 November 2012}}</ref><ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.soasalumni.org/sslpage.aspx?pid=852 |শিরোনাম=SOAS alumna Aung San Suu Kyi calls for 'Peaceful Revolution' in Burma |প্রকাশক=SOAS Alumni |সংগ্রহের-তারিখ=28 November 2012}}</ref> ১৯৯০ সালে তিনি সোয়াস-এর একজন অনারারি ফেলো হিসেবে নির্বাচিত হন।<ref name="azjarp" /> দুবছরের জন্য তিনি ভারতের [[শিমলা]]য় অবস্থিত ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ অ্যাডভান্সড স্টাডিজের (IIAS) ফেলোও ছিলেন। এছাড়া ইউনিয়ন অফ বার্মা সরকারের জন্যও তিনি কাজ করেছেন।


১৯৮৮ সালে সু চি বার্মায় ফেরেন, প্রথমত তার অসুস্থ মায়ের দেখাশোনার জন্য, তবে এরপরে গণতন্ত্রের পক্ষে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়ার উদ্দেশ্যে। ১৯৯৫-এর ক্রিসমাসে অ্যারিস বার্মায় গেলে তাদের শেষবারের মতো দেখা হয়, কারণ সু চি বার্মাতেই থেকে যান কিন্তু বর্মী স্বৈরশাসকেরা অ্যারিসকে আর কখনো বার্মায় প্রবেশের ভিসা দেয়নি।<ref name = "azjarp" /> ১৯৯৭ সালে অ্যারিসের [[প্রোস্টেট ক্যান্সার]] ধরা পড়ে এবং তা ছিল চূড়ান্ত পর্যায়ে। যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘের মহাসচিব [[কফি আনান]] এবং [[পোপ দ্বিতীয় জন পল]]সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সংস্থার আবেদন ও অনুরোধের পরও বর্মী সরকার অ্যারিসকে [[ভিসা]] দেয়নি; বরং বলে যে, অ্যারিসকে নিয়ে চিন্তিত হবার দায় সরকারের নয়, অং সান সু চিরই উচিত তাকে দেখতে বিদেশে যাওয়া। সেসময় সু চি গৃহবন্দিত্ব থেকে সাময়িক ছাড়া পেলেও দেশত্যাগ করতে রাজি হননি, কারণ তার আশঙ্কা ছিল একবার দেশ ছেড়ে গেলে সামরিক জান্তা তাকে আর ফিরতে দেবে না; তারা এই ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাস দিলেও তিনি সেগুলো বিশ্বাস করেননি।<ref>[http://news.bbc.co.uk/2/hi/south_asia/304497.stm Suu Kyi rejects UK visit offer]. BBC News. 26 মার্চ 1999.</ref>
১৯৮৮ সালে সু চি বার্মায় ফেরেন, প্রথমত তার অসুস্থ মায়ের দেখাশোনার জন্য, তবে এরপরে গণতন্ত্রের পক্ষে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়ার উদ্দেশ্যে। ১৯৯৫-এর ক্রিসমাসে অ্যারিস বার্মায় গেলে তাদের শেষবারের মতো দেখা হয়, কারণ সু চি বার্মাতেই থেকে যান কিন্তু বর্মী স্বৈরশাসকেরা অ্যারিসকে আর কখনো বার্মায় প্রবেশের ভিসা দেয়নি।<ref name = "azjarp" /> ১৯৯৭ সালে অ্যারিসের [[প্রোস্টেট ক্যান্সার]] ধরা পড়ে এবং তা ছিল চূড়ান্ত পর্যায়ে। যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘের মহাসচিব [[কফি আনান]] এবং [[পোপ দ্বিতীয় জন পল]]সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সংস্থার আবেদন ও অনুরোধের পরও বর্মী সরকার অ্যারিসকে [[ভিসা]] দেয়নি; বরং বলে যে, অ্যারিসকে নিয়ে চিন্তিত হবার দায় সরকারের নয়, অং সান সু চিরই উচিত তাকে দেখতে বিদেশে যাওয়া। সেসময় সু চি গৃহবন্দিত্ব থেকে সাময়িক ছাড়া পেলেও দেশত্যাগ করতে রাজি হননি, কারণ তার আশঙ্কা ছিল একবার দেশ ছেড়ে গেলে সামরিক জান্তা তাকে আর ফিরতে দেবে না; তারা এই ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাস দিলেও তিনি সেগুলো বিশ্বাস করেননি।<ref>[http://news.bbc.co.uk/2/hi/south_asia/304497.stm Suu Kyi rejects UK visit offer]. BBC News. 26 মার্চ 1999.</ref>
১০০ নং লাইন: ১০০ নং লাইন:
== সমালোচনা ==
== সমালোচনা ==
=== রোহিঙ্গা মুসলিম ও শরণার্থীদের সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া ===
=== রোহিঙ্গা মুসলিম ও শরণার্থীদের সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া ===
কিছু অ্যাকটিভিস্ট [[২০১২ সালে রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা]] প্রসঙ্গে অং সান সু চির নীরবতার সমালোচনা করেন<ref name=presstv>{{সংবাদ উদ্ধৃতি |ইউআরএল=http://www.presstv.com/detail/2012/07/27/252994/suu-kyi-under-fire-for-silence-on-rohingya/|শিরোনাম=Myanmar's Suu Kyi under fire for silence on Rohingya massacre|তারিখ=18 জুন 2012 |প্রকাশক=Press TV |সংগ্রহের-তারিখ=29 July 2012}}</ref> ([[২০১৫ রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট|২০১৫ সালের রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের]] ক্ষেত্রেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটে), এবং মায়ানমারের নিপীড়িত সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠী [[রোহিঙ্গা]]দের পলায়নও সু চি ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করেন।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=Rohingya boat people: Myanmar’s shame|ইউআরএল=https://www.economist.com/news/asia/21651877-poverty-politics-and-despair-are-forcing-thousands-rohingyas-flee-myanmar-authorities|সংগ্রহের-তারিখ=25 May 2015|কর্ম=[[The Economist]]|তারিখ=23 May 2015}}</ref><ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|লেখক১=Mehdi Hasan|শিরোনাম=Aung San Suu Kyi's inexcusable silence|ইউআরএল=http://www.aljazeera.com/indepth/opinion/2015/05/aung-san-suu-kyi-inexcusable-silence-150524085430576.html|সংগ্রহের-তারিখ=25 May 2015|প্রকাশক=Al Jazeera|তারিখ=24 May 2015}}</ref> ২০১২ সালে তিনি রিপোর্টারদের বলেন যে রোহিঙ্গাদেরকে বার্মার নাগরিক বলে ভাবা যাবে কি না তা তিনি জানেন না।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি |ইউআরএল=https://www.theguardian.com/global-development/video/2012/jun/22/rohingya-refugees-burma-bangladesh-video|শিরোনাম=Rohingya refugees leave Burma to seek help in Bangladesh|তারিখ=22 জুন 2012 |কর্ম=The Guardian|লেখক=Misha Hussain |সংগ্রহের-তারিখ=29 July 2012 |অবস্থান=London}}</ref> ২০১৩ সালে [[বিবিসি]]র মিশাল হুসাইনের সাথে এক সাক্ষাৎকারে সু চি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার নিন্দা করেননি এবং মায়ানমারে মুসলিমদের জাতিগত নির্মূল হতে থাকার কথা অস্বীকার করেন, বরং জোর দিয়ে বলেন যে "বৈশ্বিক মুসলিম শক্তি অনেক গ্রেট - এই বিশ্বব্যাপী কল্পিত ধারণা"র কারণে সৃষ্ট "আতঙ্কের আবহে"ই সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি সাক্ষাৎকারে "যেকোনো ধরনের ঘৃণা"রই নিন্দা করেন।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি | ইউআরএল=http://www.bbc.com/news/world-asia-24651359 | শিরোনাম=Suu Kyi blames Burma violence on 'climate of fear' | তারিখ=24 October 2013 | সংগ্রহের-তারিখ=7 May 2016 | প্রকাশক=BBC}}</ref> পিটার পপহ্যামের মতে, সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী মুসলমান ছিলেন বলে সাক্ষাৎকারের পরে সু চি রাগ প্রকাশ করেন।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.telegraph.co.uk/news/worldnews/asia/burmamyanmar/12204113/Aung-San-Suu-Kyi-in-anti-Muslim-spat-with-BBC-presenter.html|শিরোনাম=Aung San Suu Kyi in anti-Muslim spat with BBC presenter|লেখক=Nicola Harley|তারিখ=25 মার্চ 2016|কর্ম=The Telegraph}}</ref> সু চি দাবি করেছিলেন যে দুপক্ষেই সহিংসতা হচ্ছে, তখন হুসাইন তাকে চ্যালেঞ্জ করেন যে সহিংসতার প্রায় সব প্রভাব কেন শুধু রোহিঙ্গাদের ওপরই পড়ছে। পিটার পপহ্যাম সু চির এরূপ অবস্থানকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দ্ব্যর্থবোধক অবস্থান বলে মন্তব্য করেন।<ref>{{বই উদ্ধৃতি | শিরোনাম=The Lady and the Generals: Aung San Suu Kyi and Burma’s Struggle for Freedom | লেখক= Peter Popham | প্রকাশক=Penguin Books | বছর=2016}}</ref> ২০১৩ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী [[ডেভিড ক্যামেরন|ডেভিড ক্যামেরনের]] সাথে আলাপকালে তিনি [[রোহিঙ্গা]]দের বাংলাদেশি হিসেবে অভিহিত করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে যা ২০১৯ সালে [[ডেভিড ক্যামেরন|ডেভিড ক্যামেরনের]] ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার বিভিন্ন ঘটনা ও স্মৃতি নিয়ে ২০১৯ সালে প্রকাশিত একটি বইয়ে তিনি উল্লেখ করেন।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.dainikamadershomoy.com/post/217870
কিছু অ্যাকটিভিস্ট [[২০১২ সালে রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা]] প্রসঙ্গে অং সান সু চির নীরবতার সমালোচনা করেন<ref name=presstv>{{সংবাদ উদ্ধৃতি |ইউআরএল=http://www.presstv.com/detail/2012/07/27/252994/suu-kyi-under-fire-for-silence-on-rohingya/|শিরোনাম=Myanmar's Suu Kyi under fire for silence on Rohingya massacre|তারিখ=18 জুন 2012 |প্রকাশক=Press TV |সংগ্রহের-তারিখ=29 July 2012}}</ref> ([[২০১৫ রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট|২০১৫ সালের রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের]] ক্ষেত্রেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটে), এবং মায়ানমারের নিপীড়িত সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠী [[রোহিঙ্গা]]দের পলায়নও সু চি ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করেন।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=Rohingya boat people: Myanmar’s shame|ইউআরএল=https://www.economist.com/news/asia/21651877-poverty-politics-and-despair-are-forcing-thousands-rohingyas-flee-myanmar-authorities|সংগ্রহের-তারিখ=25 May 2015|কর্ম=[[The Economist]]|তারিখ=23 May 2015}}</ref><ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|লেখক১=Mehdi Hasan|শিরোনাম=Aung San Suu Kyi's inexcusable silence|ইউআরএল=http://www.aljazeera.com/indepth/opinion/2015/05/aung-san-suu-kyi-inexcusable-silence-150524085430576.html|সংগ্রহের-তারিখ=25 May 2015|প্রকাশক=Al Jazeera|তারিখ=24 May 2015}}</ref> ২০১২ সালে তিনি রিপোর্টারদের বলেন যে রোহিঙ্গাদেরকে বার্মার নাগরিক বলে ভাবা যাবে কি না তা তিনি জানেন না।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি |ইউআরএল=https://www.theguardian.com/global-development/video/2012/jun/22/rohingya-refugees-burma-bangladesh-video|শিরোনাম=Rohingya refugees leave Burma to seek help in Bangladesh|তারিখ=22 জুন 2012 |কর্ম=The Guardian|লেখক=Misha Hussain |সংগ্রহের-তারিখ=29 July 2012 |অবস্থান=London}}</ref> ২০১৩ সালে [[বিবিসি]]র মিশাল হুসাইনের সাথে এক সাক্ষাৎকারে সু চি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার নিন্দা করেননি এবং মায়ানমারে মুসলিমদের জাতিগত নির্মূল হতে থাকার কথা অস্বীকার করেন, বরং জোর দিয়ে বলেন যে "বৈশ্বিক মুসলিম শক্তি অনেক গ্রেট - এই বিশ্বব্যাপী কল্পিত ধারণা"র কারণে সৃষ্ট "আতঙ্কের আবহে"ই সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি সাক্ষাৎকারে "যেকোনো ধরনের ঘৃণা"রই নিন্দা করেন।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি | ইউআরএল=http://www.bbc.com/news/world-asia-24651359 | শিরোনাম=Suu Kyi blames Burma violence on 'climate of fear' | তারিখ=24 October 2013 | সংগ্রহের-তারিখ=7 May 2016 | প্রকাশক=BBC}}</ref> পিটার পপহ্যামের মতে, সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী মুসলমান ছিলেন বলে সাক্ষাৎকারের পরে সু চি রাগ প্রকাশ করেন।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.telegraph.co.uk/news/worldnews/asia/burmamyanmar/12204113/Aung-San-Suu-Kyi-in-anti-Muslim-spat-with-BBC-presenter.html|শিরোনাম=Aung San Suu Kyi in anti-Muslim spat with BBC presenter|লেখক=Nicola Harley|তারিখ=25 মার্চ 2016|কর্ম=The Telegraph}}</ref> সু চি দাবি করেছিলেন যে দুপক্ষেই সহিংসতা হচ্ছে, তখন হুসাইন তাকে চ্যালেঞ্জ করেন যে সহিংসতার প্রায় সব প্রভাব কেন শুধু রোহিঙ্গাদের ওপরই পড়ছে। পিটার পপহ্যাম সু চির এরূপ অবস্থানকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দ্ব্যর্থবোধক অবস্থান বলে মন্তব্য করেন।<ref>{{বই উদ্ধৃতি | শিরোনাম=The Lady and the Generals: Aung San Suu Kyi and Burma’s Struggle for Freedom | লেখক= Peter Popham | প্রকাশক=Penguin Books | বছর=2016}}</ref> ২০১৩ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী [[ডেভিড ক্যামেরন]]ের সাথে আলাপকালে তিনি [[রোহিঙ্গা]]দের বাংলাদেশি হিসেবে অভিহিত করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে যা ২০১৯ সালে [[ডেভিড ক্যামেরন]]ের ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার বিভিন্ন ঘটনা ও স্মৃতি নিয়ে ২০১৯ সালে প্রকাশিত একটি বইয়ে তিনি উল্লেখ করেন।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.dainikamadershomoy.com/post/217870
|শিরোনাম=রোহিঙ্গাদের নিয়ে ক্যামেরনকে মিথ্যা তথ্য দিলেন সূচি|তারিখ=২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯|সংগ্রহের-তারিখ=২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯|ওয়েবসাইট=আমাদের সময়
|শিরোনাম=রোহিঙ্গাদের নিয়ে ক্যামেরনকে মিথ্যা তথ্য দিলেন সূচি|তারিখ=২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯|সংগ্রহের-তারিখ=২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯|ওয়েবসাইট=আমাদের সময়
}}</ref>
}}</ref>
১০৮ নং লাইন: ১০৮ নং লাইন:
২০১৫ সালে একটি [[বিবিসি নিউজ]] আর্টিকেলে রিপোর্টার জোনাহ ফিশার তার ধারণা উপস্থাপন করেন যে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে অং সান সু চির নীরবতা আসলে আসন্ন ২০১৫ সালের জতীয় নির্বাচনে সংখ্যাগুরু বামারদের সমর্থন পাবার আশায়।<ref name="bbcfisher">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.bbc.co.uk/news/world-asia-32974061|শিরোনাম=Aung San Suu Kyi: Where are you?|কর্ম=BBC News}}</ref> ২০১৫ সালের মে মাসে [[চতুর্দশ দালাই লামা]] রোহিঙ্গাদের সাহায্য করার জন্য সু চির প্রতি আহ্বান জানান এবং দাবি করেন যে তিনি এর আগে দুবার ব্যক্তিগত সাক্ষাতে সু চিকে রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে ভাবার জন্য বললেও সু চি তা কানে তোলেননি।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=Dalai Lama presses Aung San Suu Kyi over Rohingya migrants|ইউআরএল=http://www.bbc.com/news/world-asia-32925805|সংগ্রহের-তারিখ=3 জুন 2015|প্রকাশক=BBC|তারিখ=28 May 2015}}</ref> ২০১৬র মে মাসে সু চি মায়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত স্কট মার্সিয়েলকে বলেন যে রোহিঙ্গাদের "রোহিঙ্গা" নামে উল্লেখ করা যাবে না, তারা 'মুসলিম সংখ্যালঘু'।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি | ইউআরএল=https://www.nytimes.com/2016/05/07/world/asia/myanmar-rohingya-aung-san-suu-kyi.html?_r=0 | শিরোনাম=Aung San Suu Kyi Asks U.S. Not to Refer to Rohingya | তারিখ=6 May 2016 | সংগ্রহের-তারিখ=7 May 2016 | প্রকাশক=The New York Times}}</ref> বামাররা তখন মার্সিয়েলের "রোহিঙ্গা" শব্দ ব্যবহারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=Sanctions on Myanmar|ইউআরএল=https://www.economist.com/news/asia/21699166-america-tweaks-sanctions-not-wholly-democratic-country-not-clear-yet|সংগ্রহের-তারিখ=20 May 2016|কর্ম=The Economist|তারিখ=20 May 2016|উক্তি=Suu Kyi unsettled Western diplomats (who not long ago used unequivocally to adore her) when she asked the new American ambassador not to refer to a persecuted Muslim minority by their name, the Rohingyas. Burman chauvinists had demonstrated in Yangon and Mandalay against the new ambassador’s use of the word, which in their eyes graces the Rohingyas with the dignity of citizenship which they wish to deny to them.}}</ref>
২০১৫ সালে একটি [[বিবিসি নিউজ]] আর্টিকেলে রিপোর্টার জোনাহ ফিশার তার ধারণা উপস্থাপন করেন যে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে অং সান সু চির নীরবতা আসলে আসন্ন ২০১৫ সালের জতীয় নির্বাচনে সংখ্যাগুরু বামারদের সমর্থন পাবার আশায়।<ref name="bbcfisher">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.bbc.co.uk/news/world-asia-32974061|শিরোনাম=Aung San Suu Kyi: Where are you?|কর্ম=BBC News}}</ref> ২০১৫ সালের মে মাসে [[চতুর্দশ দালাই লামা]] রোহিঙ্গাদের সাহায্য করার জন্য সু চির প্রতি আহ্বান জানান এবং দাবি করেন যে তিনি এর আগে দুবার ব্যক্তিগত সাক্ষাতে সু চিকে রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে ভাবার জন্য বললেও সু চি তা কানে তোলেননি।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=Dalai Lama presses Aung San Suu Kyi over Rohingya migrants|ইউআরএল=http://www.bbc.com/news/world-asia-32925805|সংগ্রহের-তারিখ=3 জুন 2015|প্রকাশক=BBC|তারিখ=28 May 2015}}</ref> ২০১৬র মে মাসে সু চি মায়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত স্কট মার্সিয়েলকে বলেন যে রোহিঙ্গাদের "রোহিঙ্গা" নামে উল্লেখ করা যাবে না, তারা 'মুসলিম সংখ্যালঘু'।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি | ইউআরএল=https://www.nytimes.com/2016/05/07/world/asia/myanmar-rohingya-aung-san-suu-kyi.html?_r=0 | শিরোনাম=Aung San Suu Kyi Asks U.S. Not to Refer to Rohingya | তারিখ=6 May 2016 | সংগ্রহের-তারিখ=7 May 2016 | প্রকাশক=The New York Times}}</ref> বামাররা তখন মার্সিয়েলের "রোহিঙ্গা" শব্দ ব্যবহারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=Sanctions on Myanmar|ইউআরএল=https://www.economist.com/news/asia/21699166-america-tweaks-sanctions-not-wholly-democratic-country-not-clear-yet|সংগ্রহের-তারিখ=20 May 2016|কর্ম=The Economist|তারিখ=20 May 2016|উক্তি=Suu Kyi unsettled Western diplomats (who not long ago used unequivocally to adore her) when she asked the new American ambassador not to refer to a persecuted Muslim minority by their name, the Rohingyas. Burman chauvinists had demonstrated in Yangon and Mandalay against the new ambassador’s use of the word, which in their eyes graces the Rohingyas with the dignity of citizenship which they wish to deny to them.}}</ref>


[[২০১৬-১৭ মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন|২০১৬-১৭ সালের নির্যাতনের]] সময় রোহিঙ্গা মুসলিমদের রক্ষা করতে ব্যর্থতা হওয়ায় সু চি  অভিযুক্ত হন।<ref>"[http://edition.cnn.com/2016/11/17/asia/myanmar-rohingya-aung-san-suu-kyi/ Is The Lady listening? Aung San Suu Kyi accused of ignoring Myanmar's Muslims]". CNN. 25 November 2016.</ref> লন্ডনের কুইন মেরী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেট ক্রাইম এক্সপার্টরা সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, সু চি মায়ানমারের "গণহত্যাকে আইনসম্মত" হিসেবে দেখাচ্ছেন।<ref>"[https://www.independent.co.uk/news/world/asia/rohingya-muslims-burma-myanmar-aung-san-suu-kyi-legitimising-genocide-a7439151.html Burma's Aung San Suu Kyi accused of 'legitimising genocide of Rohingya Muslims']". ''The Independent.'' 25 November 2016.</ref> ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন চলতে থাকলেও, "সেনাবাহিনীর সুপ্রমাণিত ধর্ষণ, খুন ও রোহিঙ্গা গ্রাম ধ্বংসের অভিযান বন্ধ করা তো দূরের কথা, সু চি সেসব স্বীকারই করছেন না।"<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=South-East Asia’s future looks prosperous but illiberal|ইউআরএল=https://www.economist.com/news/asia/21725168-democracy-losing-ground-even-region-grows-richer-south-east-asias-future-looks-prosperous|সংগ্রহের-তারিখ=19 July 2017|কর্ম=[[The Economist]]|তারিখ=18 July 2017}}</ref> [[৪ সেপ্টেম্বর|৪ঠা সেপ্টেম্বর]] ২০১৭ তারিখে মায়ানমারে মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংঘি লী [[রাখাইন রাজ্য|রাখাইনের]] "বাস্তবিকই মারাত্মক" পরিস্থিতি নিয়ে সু চির প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করেন; তিনি বলেন: "আইনের আওতায় সবাইকে সুরক্ষা দিতে এই ডি ফ্যাক্টো নেত্রীর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন - যেটা আমরা যেকোনো সরকারের কাছেই আশা করি।"<ref name="BBC 4 September 2017">{{ওয়েব উদ্ধৃতি |ইউআরএল= http://www.bbc.co.uk/news/world-asia-41146706|শিরোনাম= Myanmar conflict: Aung San Suu Kyi 'must step in'|লেখক= <!--Staff writer(s); no by-line.--> |তারিখ= 4 September 2017|ওয়েবসাইট= [[BBC News Online]] |প্রকাশক= BBC | সংগ্রহের-তারিখ= 4 September 2017}}</ref> বিবিসি রিপোর্ট করেছে যে "তার মন্তব্য এমন সময়ে এলো যখন বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা জাতিসংঘের হিসাবে ৮৭০০০-এ পৌঁছেছে", এছাড়াও, "তার সেন্টিমেন্ট প্রতিধ্বনিত হয়েছে শান্তিতে নোবেলজয়ী [[মালালা ইউসুফজাই]]য়ের কণ্ঠে, তিনি বলেছেন যে তিনি মিস সু চির মুখ খোলার অপেক্ষায় আছেন যিনি কিনা এই সংকট সৃস্টির পর কোনো মন্তব্য করেননি।"<ref name="BBC 4 September 2017"/> পরদিন জর্জ মনবিও ''[[দ্যা গার্ডিয়ান|দ্যা গার্ডিয়ানে]]'' তার লেখায় সু চির নোবেল পুরস্কার ফিরিয়ে নেয়ার জন্য চেঞ্জ ডট অর্গে একটি পিটিশনে সই করতে পাঠকদেরকে আহবান জানান এবং বলেন যে, "পক্ষপাতিত্বই হোক বা ভয়েই হোক, সু চি অন্যদের স্বাধীনতার অধিকার অস্বীকার করছেন, যে স্বাধীনতা তিনি একসময় নিজের জন্যে চেয়েছিলেন। তার সরকার বাধা দিচ্ছে এবং কখনোবা নীরব থাকছে সেই অ্যাকটিভিস্টদের ব্যাপারে যারা তার নিজের অধিকার আদায় করতে সাহায্য করেছিলেন।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.theguardian.com/commentisfree/2017/sep/05/rohingya-aung-san-suu-kyi-nobel-peace-prize-rohingya-myanmar|কর্ম=the Guardian|শিরোনাম=Take away Aung San Suu Kyi’s Nobel peace prize. She no longer deserves it|প্রথমাংশ=George|শেষাংশ=Monbiot|তারিখ=5 September 2017}}</ref> শান্তিতে আরেক নোবেলজয়ী আর্চবিশপ [[ডেসমন্ড টুটু]]ও সু চির নীরবতার সমালোচনা করেছেন; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে তিনি বলেন: "হে আমার বোন, মায়ানমারের রাজনৈতিক ক্ষমতার শিখরে পৌঁছানোই যদি তোমার নীরবতার কারণ হয়ে থাকে, তার জন্য সত্যিই বড়ো বেশি দাম দিতে হচ্ছে ... ন্যায়পরায়ণতার প্রতীক হয়ে ওঠা একজনের জন্য এমন একটি দেশের নেতৃত্ব দেওয়া বেমানান।"<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.theguardian.com/world/2017/sep/08/desmond-tutu-condemns-aung-san-suu-kyi-price-of-your-silence-is-too-steep|কর্ম=the Guardian||শিরোনাম=Desmond Tutu condemns Aung San Suu Kyi: 'Silence is too high a price'|প্রথমাংশ১=Naaman|শেষাংশ১=Zhou|প্রথমাংশ২=Michael|শেষাংশ২=Safi|তারিখ=8 September 2017}}</ref> ১৩ই সেপ্টেম্বর জানা যায় যে, পরের সপ্তাহে এই মানবিক সংকট নিয়ে অনুষ্ঠেয় [[জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ|জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের]] বিতর্কে অং সান সু চি অংশ নেবেন না; মায়ানমার সরকারের এক মুখপাত্র বলেন "হতে পারে তার আরো জরুরি কোনো কাজ আছে।"<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.bbc.co.uk/news/world-asia-41250057|কর্ম=BBC News|শিরোনাম=Myanmar's Aung San Suu Kyi to miss UN General Assembly debate|তারিখ=13 September 2017}}</ref>
[[২০১৬-১৭ মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন|২০১৬-১৭ সালের নির্যাতনের]] সময় রোহিঙ্গা মুসলিমদের রক্ষা করতে ব্যর্থতা হওয়ায় সু চি  অভিযুক্ত হন।<ref>"[http://edition.cnn.com/2016/11/17/asia/myanmar-rohingya-aung-san-suu-kyi/ Is The Lady listening? Aung San Suu Kyi accused of ignoring Myanmar's Muslims]". CNN. 25 November 2016.</ref> লন্ডনের কুইন মেরী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেট ক্রাইম এক্সপার্টরা সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, সু চি মায়ানমারের "গণহত্যাকে আইনসম্মত" হিসেবে দেখাচ্ছেন।<ref>"[https://www.independent.co.uk/news/world/asia/rohingya-muslims-burma-myanmar-aung-san-suu-kyi-legitimising-genocide-a7439151.html Burma's Aung San Suu Kyi accused of 'legitimising genocide of Rohingya Muslims']". ''The Independent.'' 25 November 2016.</ref> ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন চলতে থাকলেও, "সেনাবাহিনীর সুপ্রমাণিত ধর্ষণ, খুন ও রোহিঙ্গা গ্রাম ধ্বংসের অভিযান বন্ধ করা তো দূরের কথা, সু চি সেসব স্বীকারই করছেন না।"<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=South-East Asia’s future looks prosperous but illiberal|ইউআরএল=https://www.economist.com/news/asia/21725168-democracy-losing-ground-even-region-grows-richer-south-east-asias-future-looks-prosperous|সংগ্রহের-তারিখ=19 July 2017|কর্ম=[[The Economist]]|তারিখ=18 July 2017}}</ref> [[৪ সেপ্টেম্বর|৪ঠা সেপ্টেম্বর]] ২০১৭ তারিখে মায়ানমারে মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংঘি লী [[রাখাইন রাজ্য|রাখাইনের]] "বাস্তবিকই মারাত্মক" পরিস্থিতি নিয়ে সু চির প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করেন; তিনি বলেন: "আইনের আওতায় সবাইকে সুরক্ষা দিতে এই ডি ফ্যাক্টো নেত্রীর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন - যেটা আমরা যেকোনো সরকারের কাছেই আশা করি।"<ref name="BBC 4 September 2017">{{ওয়েব উদ্ধৃতি |ইউআরএল= http://www.bbc.co.uk/news/world-asia-41146706|শিরোনাম= Myanmar conflict: Aung San Suu Kyi 'must step in'|লেখক= <!--Staff writer(s); no by-line.--> |তারিখ= 4 September 2017|ওয়েবসাইট= [[BBC News Online]] |প্রকাশক= BBC | সংগ্রহের-তারিখ= 4 September 2017}}</ref> বিবিসি রিপোর্ট করেছে যে "তার মন্তব্য এমন সময়ে এলো যখন বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা জাতিসংঘের হিসাবে ৮৭০০০-এ পৌঁছেছে", এছাড়াও, "তার সেন্টিমেন্ট প্রতিধ্বনিত হয়েছে শান্তিতে নোবেলজয়ী [[মালালা ইউসুফজাই]]য়ের কণ্ঠে, তিনি বলেছেন যে তিনি মিস সু চির মুখ খোলার অপেক্ষায় আছেন যিনি কিনা এই সংকট সৃস্টির পর কোনো মন্তব্য করেননি।"<ref name="BBC 4 September 2017"/> পরদিন জর্জ মনবিও ''[[দ্যা গার্ডিয়ান]]'' তার লেখায় সু চির নোবেল পুরস্কার ফিরিয়ে নেয়ার জন্য চেঞ্জ ডট অর্গে একটি পিটিশনে সই করতে পাঠকদেরকে আহবান জানান এবং বলেন যে, "পক্ষপাতিত্বই হোক বা ভয়েই হোক, সু চি অন্যদের স্বাধীনতার অধিকার অস্বীকার করছেন, যে স্বাধীনতা তিনি একসময় নিজের জন্যে চেয়েছিলেন। তার সরকার বাধা দিচ্ছে এবং কখনোবা নীরব থাকছে সেই অ্যাকটিভিস্টদের ব্যাপারে যারা তার নিজের অধিকার আদায় করতে সাহায্য করেছিলেন।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.theguardian.com/commentisfree/2017/sep/05/rohingya-aung-san-suu-kyi-nobel-peace-prize-rohingya-myanmar|কর্ম=the Guardian|শিরোনাম=Take away Aung San Suu Kyi’s Nobel peace prize. She no longer deserves it|প্রথমাংশ=George|শেষাংশ=Monbiot|তারিখ=5 September 2017}}</ref> শান্তিতে আরেক নোবেলজয়ী আর্চবিশপ [[ডেসমন্ড টুটু]]ও সু চির নীরবতার সমালোচনা করেছেন; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে তিনি বলেন: "হে আমার বোন, মায়ানমারের রাজনৈতিক ক্ষমতার শিখরে পৌঁছানোই যদি তোমার নীরবতার কারণ হয়ে থাকে, তার জন্য সত্যিই বড়ো বেশি দাম দিতে হচ্ছে ... ন্যায়পরায়ণতার প্রতীক হয়ে ওঠা একজনের জন্য এমন একটি দেশের নেতৃত্ব দেওয়া বেমানান।"<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.theguardian.com/world/2017/sep/08/desmond-tutu-condemns-aung-san-suu-kyi-price-of-your-silence-is-too-steep|কর্ম=the Guardian||শিরোনাম=Desmond Tutu condemns Aung San Suu Kyi: 'Silence is too high a price'|প্রথমাংশ১=Naaman|শেষাংশ১=Zhou|প্রথমাংশ২=Michael|শেষাংশ২=Safi|তারিখ=8 September 2017}}</ref> ১৩ই সেপ্টেম্বর জানা যায় যে, পরের সপ্তাহে এই মানবিক সংকট নিয়ে অনুষ্ঠেয় [[জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ|জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের]] বিতর্কে অং সান সু চি অংশ নেবেন না; মায়ানমার সরকারের এক মুখপাত্র বলেন "হতে পারে তার আরো জরুরি কোনো কাজ আছে।"<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.bbc.co.uk/news/world-asia-41250057|কর্ম=BBC News|শিরোনাম=Myanmar's Aung San Suu Kyi to miss UN General Assembly debate|তারিখ=13 September 2017}}</ref>


== জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে ==
== জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে ==