বিষয়বস্তুতে চলুন

অহল্যা চারি: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

ভারতপিডিয়া থেকে
>InternetArchiveBot
১টি উৎস উদ্ধার করা হল ও ০টি অকার্যকর হিসেবে চিহ্নিত করা হল।) #IABot (v2.0.8
 
রবি (আলোচনা | অবদান)
Text replacement - "January" to "জানুয়ারি"
২৮ নং লাইন: ২৮ নং লাইন:
১৯৫১ সালে, অহল্যা বসন্ত কলেজ থেকে পদত্যাগ করেন এবং দিল্লিতে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগে শিক্ষণ সংক্রান্ত অধিক প্রশিক্ষণের জন্যে যোগদান করেন<ref name="Ahalya Chari, Trustee, Krishnamurti Foundation of India7"/>; এই বিভাগটি পূর্বে কেন্দ্রীয় শিক্ষা সংস্থা (সেন্ট্রাল ইন্স্টিটিউট অফ এডুকেশন বা সি আই ই) নামে পরিচিত ছিল<ref name="Ahalya Chari, Trustee, Krishnamurti Foundation of India7"/><ref name="Central Institute of Education2">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://cie.du.ac.in/|শিরোনাম=Central Institute of Education|তারিখ=2015|প্রকাশক=Central Institute of Education|সংগ্রহের-তারিখ=5 July 2015}}</ref>। এই সময়ে, আরও পড়াশুনার জন্য তিনি ফুলব্রাইট বৃত্তি নিয়ে [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|যুক্তরাষ্ট্রে]] যান এবং সেখানে দুই বছর কাটিয়ে ১৯৫৩ সালে বিভাগের সদস্য হিসাবে সিআইইতে ফিরে আসেন<ref name="Ahalya Chari, Trustee, Krishnamurti Foundation of India7"/>। সরকার যখন [[কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়|কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়]] থেকে পরামর্শদাতা নিয়োগের মাধ্যমে ইউএসএআইডি-এর সহায়তায় বিদ্যালয়স্তরের-শিক্ষার জন্য একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তখন অহল্যাকে এই প্রকল্পে প্রেরণ করা হয় এবং ১৯৬১ সালে জাতীয় শিক্ষা ইনস্টিটিউট (এনআইই) প্রতিষ্ঠার সাথে অহল্যা জড়িত হন<ref name="Ahalya Chari, Trustee, Krishnamurti Foundation of India7"/>।প্রতিষ্ঠানটি  প্রতিষ্ঠার পরে তিনি [[এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়|এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে]] [[ফলিত ভাষাবিজ্ঞান|ফলিত ভাষাবিজ্ঞানে]] (১৯৬১-৬২) এক বছরের জন্য প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৬২ সালে [[ভারত|ভারতে]] ফিরে আসার পরে, তিনি এনসিইআরটি-তে পাঠ্যপুস্তক বিভাগের প্রধান হিসাবে নিযুক্ত হন এবং ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি এই চাকরি করেন<ref name="Senior educationist Ahalya Chari no more6"/><ref name="Living Teachings5"/>। এনসিইআরটি-তে থাকাকালীন তিনি একটি 'রিডিং প্রজেক্ট' চালু করেন এবং শিশুদের পড়ার অভ্যেস গঠন করার জন্যে 'পড়ার-উপকরণ' (রিডিং মেটিরিয়াল) প্রস্তুত করেন। বিদ্যালয়স্তরের পাঠ্যক্রম পুনর্বিন্যাসেও তিনি সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিলেন<ref name="Educator, Jiddu associate Ahalya Chari dead5"/>। এনসিইআরটি যখন [[আজমির]], [[ভোপাল]], [[ভুবনেশ্বর]] এবং [[মহীশূর|মাইসোরে]] চারটি আঞ্চলিক শিক্ষা কেন্দ্র চালু করেছিল<ref name="Regional Institutes of Education (RIE)3">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.riemysore.ac.in/index.php/about-us/rie-mysore|শিরোনাম=Regional Institutes of Education (RIE)|কর্ম=Regional Institutes of Education< Mysore|প্রকাশক=Regional Institutes of Education (RIE)|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20161113090917/http://www.riemysore.ac.in/index.php/about-us/rie-mysore|আর্কাইভের-তারিখ=13 November 2016|ইউআরএল-অবস্থা=dead|সংগ্রহের-তারিখ=15 November 2016|df=dmy-all}}</ref>, তখন তিনি [[মহীশূর|মাইসোর]] আঞ্চলিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের<ref name="Senior educationist Ahalya Chari no more6"/> অধ্যক্ষ হিসাবে নিযুক্ত হন।
১৯৫১ সালে, অহল্যা বসন্ত কলেজ থেকে পদত্যাগ করেন এবং দিল্লিতে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগে শিক্ষণ সংক্রান্ত অধিক প্রশিক্ষণের জন্যে যোগদান করেন<ref name="Ahalya Chari, Trustee, Krishnamurti Foundation of India7"/>; এই বিভাগটি পূর্বে কেন্দ্রীয় শিক্ষা সংস্থা (সেন্ট্রাল ইন্স্টিটিউট অফ এডুকেশন বা সি আই ই) নামে পরিচিত ছিল<ref name="Ahalya Chari, Trustee, Krishnamurti Foundation of India7"/><ref name="Central Institute of Education2">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://cie.du.ac.in/|শিরোনাম=Central Institute of Education|তারিখ=2015|প্রকাশক=Central Institute of Education|সংগ্রহের-তারিখ=5 July 2015}}</ref>। এই সময়ে, আরও পড়াশুনার জন্য তিনি ফুলব্রাইট বৃত্তি নিয়ে [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|যুক্তরাষ্ট্রে]] যান এবং সেখানে দুই বছর কাটিয়ে ১৯৫৩ সালে বিভাগের সদস্য হিসাবে সিআইইতে ফিরে আসেন<ref name="Ahalya Chari, Trustee, Krishnamurti Foundation of India7"/>। সরকার যখন [[কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়|কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়]] থেকে পরামর্শদাতা নিয়োগের মাধ্যমে ইউএসএআইডি-এর সহায়তায় বিদ্যালয়স্তরের-শিক্ষার জন্য একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তখন অহল্যাকে এই প্রকল্পে প্রেরণ করা হয় এবং ১৯৬১ সালে জাতীয় শিক্ষা ইনস্টিটিউট (এনআইই) প্রতিষ্ঠার সাথে অহল্যা জড়িত হন<ref name="Ahalya Chari, Trustee, Krishnamurti Foundation of India7"/>।প্রতিষ্ঠানটি  প্রতিষ্ঠার পরে তিনি [[এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়|এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে]] [[ফলিত ভাষাবিজ্ঞান|ফলিত ভাষাবিজ্ঞানে]] (১৯৬১-৬২) এক বছরের জন্য প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৬২ সালে [[ভারত|ভারতে]] ফিরে আসার পরে, তিনি এনসিইআরটি-তে পাঠ্যপুস্তক বিভাগের প্রধান হিসাবে নিযুক্ত হন এবং ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি এই চাকরি করেন<ref name="Senior educationist Ahalya Chari no more6"/><ref name="Living Teachings5"/>। এনসিইআরটি-তে থাকাকালীন তিনি একটি 'রিডিং প্রজেক্ট' চালু করেন এবং শিশুদের পড়ার অভ্যেস গঠন করার জন্যে 'পড়ার-উপকরণ' (রিডিং মেটিরিয়াল) প্রস্তুত করেন। বিদ্যালয়স্তরের পাঠ্যক্রম পুনর্বিন্যাসেও তিনি সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিলেন<ref name="Educator, Jiddu associate Ahalya Chari dead5"/>। এনসিইআরটি যখন [[আজমির]], [[ভোপাল]], [[ভুবনেশ্বর]] এবং [[মহীশূর|মাইসোরে]] চারটি আঞ্চলিক শিক্ষা কেন্দ্র চালু করেছিল<ref name="Regional Institutes of Education (RIE)3">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.riemysore.ac.in/index.php/about-us/rie-mysore|শিরোনাম=Regional Institutes of Education (RIE)|কর্ম=Regional Institutes of Education< Mysore|প্রকাশক=Regional Institutes of Education (RIE)|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20161113090917/http://www.riemysore.ac.in/index.php/about-us/rie-mysore|আর্কাইভের-তারিখ=13 November 2016|ইউআরএল-অবস্থা=dead|সংগ্রহের-তারিখ=15 November 2016|df=dmy-all}}</ref>, তখন তিনি [[মহীশূর|মাইসোর]] আঞ্চলিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের<ref name="Senior educationist Ahalya Chari no more6"/> অধ্যক্ষ হিসাবে নিযুক্ত হন।


১৯৬০ এর দশকের গোড়ার দিকে, মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়সমূহ প্রতিষ্ঠা করে এবং কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংস্থা (কেভিএস) এর প্রথম কমিশনার হিসাবে অহল্যাকে নিযুক্ত করা হয়। তিনি ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত কেভিএসের সাথে কাজ করেছিলেন; তারপর তিনি বিখ্যাত দার্শনিক [[জিদ্দু কৃষ্ণমূর্তি]]<nowiki/>র<ref name="Educationist Ahalya Chari passes away at ‘Vasant Vihar’3">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.mylaporetimes.com/2013/04/educationist-ahalya-chari-passes-away-at-vasant-vihar/|শিরোনাম=Educationist Ahalya Chari passes away at ‘Vasant Vihar’|তারিখ=1 April 2013|প্রকাশক=Mylapore Times|সংগ্রহের-তারিখ=5 July 2015}}</ref> সংস্পর্শে এসেছিলেন এবং বারাণসীর রাজঘাট শিক্ষা কেন্দ্রে কাজ করার জন্য যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৮২ সালে কৃষ্ণমূর্তি প্রতিষ্ঠানের (কৃষ্ণমূর্তি ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া বা কেএফআই) একটি বিদ্যালয় ''দ্য স্কুল'' এর অধ্যক্ষ হিসাবে মাদ্রাজে (বর্তমানে [[চেন্নাই]]) চলে আসেন<ref name="Educator, Jiddu associate Ahalya Chari dead5"/>। এখানে থাকাকালীন তিনি শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের বিরুদ্ধে কাজ করেছিলেন এবং সরকারের শিক্ষার অধিকার আইন বাস্তবায়ন, সমন্বিত শিক্ষামূলক কর্মসূচি প্রবর্তন<ref name="Ahalya Chari As I Knew Her3">{{সাময়িকী উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.journal.kfionline.org/issue-18/ahalya-chari-as-i-knew-her|শিরোনাম=Ahalya Chari As I Knew Her|তারিখ=January 2014|লেখক=C. Seshadri|সাময়িকী=Journal of the Krishnamurty Foundation Schools|খণ্ড=18}}</ref> এবং উন্মুক্ত বিদ্যালয় ব্যবস্থার সূচনা<ref name="Educationist Ahalya Chari passes away at ‘Vasant Vihar’3"/> প্রভৃতি প্রকল্প শুরু করেছিলেন।
১৯৬০ এর দশকের গোড়ার দিকে, মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়সমূহ প্রতিষ্ঠা করে এবং কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংস্থা (কেভিএস) এর প্রথম কমিশনার হিসাবে অহল্যাকে নিযুক্ত করা হয়। তিনি ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত কেভিএসের সাথে কাজ করেছিলেন; তারপর তিনি বিখ্যাত দার্শনিক [[জিদ্দু কৃষ্ণমূর্তি]]<nowiki/>র<ref name="Educationist Ahalya Chari passes away at ‘Vasant Vihar’3">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.mylaporetimes.com/2013/04/educationist-ahalya-chari-passes-away-at-vasant-vihar/|শিরোনাম=Educationist Ahalya Chari passes away at ‘Vasant Vihar’|তারিখ=1 April 2013|প্রকাশক=Mylapore Times|সংগ্রহের-তারিখ=5 July 2015}}</ref> সংস্পর্শে এসেছিলেন এবং বারাণসীর রাজঘাট শিক্ষা কেন্দ্রে কাজ করার জন্য যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৮২ সালে কৃষ্ণমূর্তি প্রতিষ্ঠানের (কৃষ্ণমূর্তি ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া বা কেএফআই) একটি বিদ্যালয় ''দ্য স্কুল'' এর অধ্যক্ষ হিসাবে মাদ্রাজে (বর্তমানে [[চেন্নাই]]) চলে আসেন<ref name="Educator, Jiddu associate Ahalya Chari dead5"/>। এখানে থাকাকালীন তিনি শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের বিরুদ্ধে কাজ করেছিলেন এবং সরকারের শিক্ষার অধিকার আইন বাস্তবায়ন, সমন্বিত শিক্ষামূলক কর্মসূচি প্রবর্তন<ref name="Ahalya Chari As I Knew Her3">{{সাময়িকী উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.journal.kfionline.org/issue-18/ahalya-chari-as-i-knew-her|শিরোনাম=Ahalya Chari As I Knew Her|তারিখ=জানুয়ারি 2014|লেখক=C. Seshadri|সাময়িকী=Journal of the Krishnamurty Foundation Schools|খণ্ড=18}}</ref> এবং উন্মুক্ত বিদ্যালয় ব্যবস্থার সূচনা<ref name="Educationist Ahalya Chari passes away at ‘Vasant Vihar’3"/> প্রভৃতি প্রকল্প শুরু করেছিলেন।


অনন্যা কৃষ্ণমূর্তি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠানের সাথে তাঁর সংযোগ শেষ অবধি অব্যাহত রেখেছিলেন এবং তথ্য বিনিময়ের জন্য দ্য স্কুলের একটি প্রাক্তনী সঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি চেন্নাইয়ের বসন্ত বিহারে, যেখানে কৃষ্ণমূর্তি ফাউন্ডেশনের সদর দফতর অবস্থিত, সেখানেই থাকতেন এবং এই ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি হিসাবে কাজ করেছিলেন। তিনি কৃষ্ণমূর্তি স্কুলগুলির পত্রিকা শুরু করেছিলেন এবং এগুলি কয়েক বছর সম্পাদনা করেছিলেন। তাঁর দুটি বইও প্রকাশিত হয়েছিল- ১৯৯৭ সালে রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক অনুসন্ধান এবং প্রশিক্ষণ পরিষদ দ্বারা ''থিংকিং টুগেদার''(হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায়) এবং ২০০১ সালে কেএফআই দ্বারা ''সিলেকশন অফ দ্য ডিকেডস : অন সেলফ-নলেজ''। তিনি 'জ্ঞান এবং অনুশাসন' এর উপর একটি বক্তৃতাও দিয়েছিলেন। ১৯৮৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে [[পদ্মশ্রী]] নাগরিক সম্মানে ভূষিত করেছিল।
অনন্যা কৃষ্ণমূর্তি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠানের সাথে তাঁর সংযোগ শেষ অবধি অব্যাহত রেখেছিলেন এবং তথ্য বিনিময়ের জন্য দ্য স্কুলের একটি প্রাক্তনী সঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি চেন্নাইয়ের বসন্ত বিহারে, যেখানে কৃষ্ণমূর্তি ফাউন্ডেশনের সদর দফতর অবস্থিত, সেখানেই থাকতেন এবং এই ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি হিসাবে কাজ করেছিলেন। তিনি কৃষ্ণমূর্তি স্কুলগুলির পত্রিকা শুরু করেছিলেন এবং এগুলি কয়েক বছর সম্পাদনা করেছিলেন। তাঁর দুটি বইও প্রকাশিত হয়েছিল- ১৯৯৭ সালে রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক অনুসন্ধান এবং প্রশিক্ষণ পরিষদ দ্বারা ''থিংকিং টুগেদার''(হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায়) এবং ২০০১ সালে কেএফআই দ্বারা ''সিলেকশন অফ দ্য ডিকেডস : অন সেলফ-নলেজ''। তিনি 'জ্ঞান এবং অনুশাসন' এর উপর একটি বক্তৃতাও দিয়েছিলেন। ১৯৮৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে [[পদ্মশ্রী]] নাগরিক সম্মানে ভূষিত করেছিল।

১৭:১১, ২২ মার্চ ২০২২ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ

অহল্যা চারি
জন্ম১৯২১
মৃত্যু৩০ মার্চ ২০১৩(2013-03-30) (বয়স ৯১–৯২)
সমাধিচেন্নাই, তামিলনাড়ু, ভারত
২৮°৩৩′২৭″ উত্তর ৭৭°০৯′৩২″ পূর্ব / ২৮.৫৫৭৪° উত্তর ৭৭.১৫৯° পূর্ব / 28.5574; 77.159
পেশাশিক্ষাব্রতী
কর্মজীবন১৯৪৩-২০১৩
পরিচিতির কারণভারতে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংগঠন প্রতিষ্ঠা
পুরস্কারপদ্মশ্রী

অহল্যা চারি (১৯২১-৩০শে মার্চ ২০১৩) একজন ভারতীয় শিক্ষাবিদ[][] এবং ভারতের মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের(এমএইচআরডি) অধীনে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সমূহের সংগঠনের প্রথম কমিশনার ছিলেন[]। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের সন্তানদের শিক্ষাগত প্রয়োজনে এমএইচআরডির অধীনে স্বায়ত্তশাসিত কেন্দ্র, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংস্থার রূপায়ণে অহল্যা চারির ভূমিকা অনস্বীকার্য[]। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ভারত সরকার তাঁকে ১৯৮৩ সালে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মশ্রী দ্বারা ভূষিত করেছিল[]

জীবনী

অহল্যা চারি ১৯২১ সালে ব্রিটিশ বার্মার রাজধানী রেঙ্গুনে রাজলক্ষ্মী চারি এবং কস্তুরি রাজাগোপাল চারির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন[]; সাত ভাইবোনের মধ্যে অহল্যা ছিলেন সবথেকে বড়[]। তিনি ব্রিটিশ পাঠ্যক্রমের অধীনে পরিচালিত একটি মেয়েদের কনভেন্ট স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন এবং ১৯৪১ সালে ইংরেজি সাহিত্যে সাম্মানিক সহ রেঙ্গুন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তাঁর পরিবারকে বার্মা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করে এবং পরিবারটি পথে শোয়েবো এবং কলকাতায় শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়ে অবশেষে বেনারসে এসে স্থিত হয়। বেনারসে স্থায়ী হওয়ার পরে, তিনি বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৪৩ সালে[] তিনি বসন্ত কলেজ ফর উইমেনের[] অধ্যাপক রূপে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন এবং সেখানে তিনি ১০ বছর অধ্যাপনা করেন[]

১৯৫১ সালে, অহল্যা বসন্ত কলেজ থেকে পদত্যাগ করেন এবং দিল্লিতে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগে শিক্ষণ সংক্রান্ত অধিক প্রশিক্ষণের জন্যে যোগদান করেন[]; এই বিভাগটি পূর্বে কেন্দ্রীয় শিক্ষা সংস্থা (সেন্ট্রাল ইন্স্টিটিউট অফ এডুকেশন বা সি আই ই) নামে পরিচিত ছিল[][১০]। এই সময়ে, আরও পড়াশুনার জন্য তিনি ফুলব্রাইট বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং সেখানে দুই বছর কাটিয়ে ১৯৫৩ সালে বিভাগের সদস্য হিসাবে সিআইইতে ফিরে আসেন[]। সরকার যখন কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরামর্শদাতা নিয়োগের মাধ্যমে ইউএসএআইডি-এর সহায়তায় বিদ্যালয়স্তরের-শিক্ষার জন্য একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তখন অহল্যাকে এই প্রকল্পে প্রেরণ করা হয় এবং ১৯৬১ সালে জাতীয় শিক্ষা ইনস্টিটিউট (এনআইই) প্রতিষ্ঠার সাথে অহল্যা জড়িত হন[]।প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পরে তিনি এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলিত ভাষাবিজ্ঞানে (১৯৬১-৬২) এক বছরের জন্য প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৬২ সালে ভারতে ফিরে আসার পরে, তিনি এনসিইআরটি-তে পাঠ্যপুস্তক বিভাগের প্রধান হিসাবে নিযুক্ত হন এবং ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি এই চাকরি করেন[][]। এনসিইআরটি-তে থাকাকালীন তিনি একটি 'রিডিং প্রজেক্ট' চালু করেন এবং শিশুদের পড়ার অভ্যেস গঠন করার জন্যে 'পড়ার-উপকরণ' (রিডিং মেটিরিয়াল) প্রস্তুত করেন। বিদ্যালয়স্তরের পাঠ্যক্রম পুনর্বিন্যাসেও তিনি সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিলেন[]। এনসিইআরটি যখন আজমির, ভোপাল, ভুবনেশ্বর এবং মাইসোরে চারটি আঞ্চলিক শিক্ষা কেন্দ্র চালু করেছিল[১১], তখন তিনি মাইসোর আঞ্চলিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের[] অধ্যক্ষ হিসাবে নিযুক্ত হন।

১৯৬০ এর দশকের গোড়ার দিকে, মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়সমূহ প্রতিষ্ঠা করে এবং কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংস্থা (কেভিএস) এর প্রথম কমিশনার হিসাবে অহল্যাকে নিযুক্ত করা হয়। তিনি ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত কেভিএসের সাথে কাজ করেছিলেন; তারপর তিনি বিখ্যাত দার্শনিক জিদ্দু কৃষ্ণমূর্তি[১২] সংস্পর্শে এসেছিলেন এবং বারাণসীর রাজঘাট শিক্ষা কেন্দ্রে কাজ করার জন্য যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৮২ সালে কৃষ্ণমূর্তি প্রতিষ্ঠানের (কৃষ্ণমূর্তি ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া বা কেএফআই) একটি বিদ্যালয় দ্য স্কুল এর অধ্যক্ষ হিসাবে মাদ্রাজে (বর্তমানে চেন্নাই) চলে আসেন[]। এখানে থাকাকালীন তিনি শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের বিরুদ্ধে কাজ করেছিলেন এবং সরকারের শিক্ষার অধিকার আইন বাস্তবায়ন, সমন্বিত শিক্ষামূলক কর্মসূচি প্রবর্তন[১৩] এবং উন্মুক্ত বিদ্যালয় ব্যবস্থার সূচনা[১২] প্রভৃতি প্রকল্প শুরু করেছিলেন।

অনন্যা কৃষ্ণমূর্তি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠানের সাথে তাঁর সংযোগ শেষ অবধি অব্যাহত রেখেছিলেন এবং তথ্য বিনিময়ের জন্য দ্য স্কুলের একটি প্রাক্তনী সঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি চেন্নাইয়ের বসন্ত বিহারে, যেখানে কৃষ্ণমূর্তি ফাউন্ডেশনের সদর দফতর অবস্থিত, সেখানেই থাকতেন এবং এই ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি হিসাবে কাজ করেছিলেন। তিনি কৃষ্ণমূর্তি স্কুলগুলির পত্রিকা শুরু করেছিলেন এবং এগুলি কয়েক বছর সম্পাদনা করেছিলেন। তাঁর দুটি বইও প্রকাশিত হয়েছিল- ১৯৯৭ সালে রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক অনুসন্ধান এবং প্রশিক্ষণ পরিষদ দ্বারা থিংকিং টুগেদার(হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায়) এবং ২০০১ সালে কেএফআই দ্বারা সিলেকশন অফ দ্য ডিকেডস : অন সেলফ-নলেজ। তিনি 'জ্ঞান এবং অনুশাসন' এর উপর একটি বক্তৃতাও দিয়েছিলেন। ১৯৮৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী নাগরিক সম্মানে ভূষিত করেছিল।

অহল্যা চারি ২০১৩র ৩০শে মার্চ ৯১ বছর বয়সে চেন্নাইয়ের বসন্ত বিহারে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তথ্যসূত্র

  1. Kinfonet (২০১৩)। "Freidrich's Newsletter" (PDF)। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মার্চ ২০২০ 
  2. Gopalkrishna Gandhi (৬ এপ্রিল ২০১৩)। "The creativity wallahs"Hindustan Times। ৯ জুলাই ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০১৫ 
  3. ৩.০ ৩.১ ৩.২ "Senior educationist Ahalya Chari no more"The Hindu। ৩১ মার্চ ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুলাই ২০১৫ 
  4. "Kendriya Vidyalaya Sangathan"। Kendriya Vidyalaya Sangathan। ২০১৫। ৬ জুলাই ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুলাই ২০১৫ 
  5. "Padma Shri" (PDF)। Padma Shri। ২০১৫। ১৫ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুন ২০১৫ 
  6. ৬.০ ৬.১ ৬.২ "Living Teachings"। Travels and Travels India। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুলাই ২০১৫ 
  7. "Ahalya Chari Geni profile"। Geni। ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুলাই ২০১৫ 
  8. ৮.০ ৮.১ ৮.২ "Educator, Jiddu associate Ahalya Chari dead"Times of India। ১ এপ্রিল ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০১৫ 
  9. ৯.০ ৯.১ ৯.২ ৯.৩ ৯.৪ Chari, Ahalya (২০০৮)। "Ahalya Chari, Trustee, Krishnamurti Foundation of India"India Seminar (সাক্ষাৎকার)। সাক্ষাত্কার গ্রহণ করেন Meera Srinivasan (The Hindu)। Chennai। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০১৫ 
  10. "Central Institute of Education"। Central Institute of Education। ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০১৫ 
  11. "Regional Institutes of Education (RIE)"Regional Institutes of Education< Mysore। Regional Institutes of Education (RIE)। ১৩ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ নভেম্বর ২০১৬ 
  12. ১২.০ ১২.১ "Educationist Ahalya Chari passes away at 'Vasant Vihar'"। Mylapore Times। ১ এপ্রিল ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০১৫ 
  13. C. Seshadri (জানুয়ারি ২০১৪)। "Ahalya Chari As I Knew Her"Journal of the Krishnamurty Foundation Schools18