অধর কুমার চ্যাটার্জি
অধর কুমার চ্যাটার্জি (৪ মার্চ ১৯১৪ – ৬ আগস্ট ২০০১) ভারতের নৌবাহিনীর একজন নৌসেনাধ্যক্ষ। তিনি ৪ মার্চ, ১৯৬৬ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এই পদে নিযুক্ত ছিলেন।[১] তিনি ভারতের প্রথম পূর্ণ অ্যাডমিরাল পদে উন্নীত নৌসেনা প্রধান।
অধর কুমার চ্যাটার্জি | |
|---|---|
| চিত্র:অধর কুমার চ্যাটার্জি.jpeg | |
| জন্ম | ৪ মার্চ, ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ |
| মৃত্যু | টেমপ্লেট:BirthDeathAge নতুন দিল্লি |
| আনুগত্য | থাম্বনেইল সৃষ্টি করতে গিয়ে ত্রুটি: ফাইল হারিয়ে গেছে ভারত |
| সার্ভিস/ | |
| কার্যকাল | ১৯৩৩-১৯৭০ |
| পদমর্যাদা | থাম্বনেইল সৃষ্টি করতে গিয়ে ত্রুটি: ফাইল হারিয়ে গেছে থাম্বনেইল সৃষ্টি করতে গিয়ে ত্রুটি: ফাইল হারিয়ে গেছে এডমিরাল |
| নেতৃত্বসমূহ | নৌসেনাধ্যক্ষ ফ্ল্যাগ অফিসার কমান্ডিং (এফ.ও.সি.), নৌবাহিনী কমান্ডার-ইন-চার্জ, বোম্বে কমান্ড টেমপ্লেট:জাহাজ |
| যুদ্ধ/সংগ্রাম | দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ গোয়া সংযোজন ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ১৯৬৫ |
প্রথম জীবন সম্পাদনা
অধর কুমার চ্যাটার্জি ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অধীনস্থ প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে স্নাতক হন। সেই বছরই তিনি রয়্যাল ইন্ডিয়ান নেভিের প্রবেশপথের মানদণ্ডের বিষয়ে কলেজে নোটিশ দেখেছিলেন। তিনি পরীক্ষার আবেদন এবং প্রবেশ পরীক্ষার শীর্ষস্থান অধিকার করেন।
কর্মজীবন সম্পাদনা
অধর কুমার চ্যাটার্জি ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে রয়্যাল ইন্ডিয়ান নৌবাহিনীতে যোগদানের জন্য প্রথম ভারতীয় ক্যাডেট-এন্ট্রি অফিসার ছিলেন। টিএস ডাফরিন বোর্ডে প্রশিক্ষণের পর তাকে যুক্তরাজ্যে পাঠানো হয়েছিল। ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে ১ সেপ্টেম্বর তিনি উপ-লেফটেন্যান্ট হিসেবে রয়েল ইন্ডিয়ান নেভি কমিশন লাভ করেন এবং তিন বছর পরে ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে লেফটেন্যান্ট পদে উন্নীত হন।[২]
তিনি ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দে অ্যান্টি-সাবমেরিন যুদ্ধের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আটলান্টিক ও ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন জোনে রয়্যাল নেভি এবং রয়্যাল ইন্ডিয়ান নেভি জাহাজে কর্মরত ছিলেন। তিনি যুদ্ধের সময় রয়্যাল নেভি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে অ্যান্টি-সাবমেরিন যুদ্ধে সংঘর্ষ সম্পর্কে প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছিলেন। যুদ্ধ শেষে ১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি একজন ভারপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট-কমান্ডার পদে উন্নীত হন।[৩]
১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের আগস্ট মাসে, কমান্ডার চ্যাটার্জী যুক্তরাজ্যের কর্মীদের কর্মসূচী সম্পন্ন করেন এবং তার প্রত্যাবর্তনকালে নতুন দিল্লির নৌবাহিনীতে নৌ-পরিকল্পনাটির পরিচালক নিযুক্ত হন।[৪]
১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে একজন সক্ষম অধিনায়ক হিসাবে তিনি ভারতীয় নৌবাহিনীর আইএনএস দিল্লি (১৯৪৮)-এর পতাকাধারী জাহাজের অধিনায়ক নিযুক্ত হন। তিনি ক্রুজার কমান্ডার প্রথম ভারতীয় কর্মকর্তা ছিলেন। তিনিই প্রথম ভারতীয় যিনি কামানবাহী জাহাজের নেতৃত্ব দেন। ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বরে থেকে ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারীর মধ্যে চ্যাটার্জি যুক্তরাজ্যের হাই কমিশনারের নৌ উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি যুক্তরাজ্যের বহু নৌ ক্যাডেট এবং জুনিয়র অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেন। ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জুন তাকে ক্যাপ্টেনের মূল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
ইম্পেরিয়াল ডিফেন্স কলেজের নেতৃত্বের পর কমোডোর চ্যাটারজিকে ৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৮-এ নৌবাহিনীর ডেপুটি চীফ নিযুক্ত করা হয়। মার্চ মাসের ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি রিয়ার অ্যাডমিরাল পদে উন্নীত হন। ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে চ্যাটার্জিকে ভারপ্রাপ্ত ভাইস অ্যাডমিরাল পদে উন্নীত করা হয় এবং তিনি জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজের কমান্ড্যান্ট পদে অধিষ্ঠিত হন। ৪ মার্চ, ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ভারতীয় নৌবাহিনীর সপ্তম প্রধান নিযুক্ত হন। ২২ নভেম্বর, ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে ভাইস অ্যাডমিরালের পদে তিনি নিশ্চিত হন এবং ১ মার্চ ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তিনি প্রথম ভারতীয় কর্মকর্তা পদে অধিষ্ঠিত হন। অ্যাডমিরাল চ্যাটার্জী ২8 ফেব্রুয়ারি ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে ভারতীয় নৌবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।[৫]
জীবনাবসান সম্পাদনা
অ্যাডমিরাল চ্যাটার্জী নতুন দিল্লিতে মারা যান।
তথ্যসূত্র সম্পাদনা
- ↑ "Indian Navy Information Resource and Facilitation Centre - Content"। web.archive.org। ২০১২-০৪-২৫। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৩-১৮।
- ↑ The London Gazette, 7 October 1938
- ↑ "নং. 37893"। দ্যা লন্ডন গেজেট (ইংরেজি ভাষায়)। ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৭।
- ↑ "Part I-Section 4: Ministry of Defence (Navy Branch)"। ভারত গেজেট। ১৪ জুলাই ১৯৫১। পৃষ্ঠা 133।
- ↑ "Part I-Section 4: Ministry of Defence (Navy Branch)"। ভারত গেজেট। ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৭। পৃষ্ঠা 89।