অজয় ঘোষ
অজয় ঘোষ বা অজয়কুমার ঘোষ (২০ ফেব্রুয়ারি ১৯০৯ ― ১৩ জানুয়ারি ১৯৬২) ছিলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির একজন পলিটব্যুরো সদস্য ও অন্যতম তাত্ত্বিক নেতা। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে তিনি ছিলেন শহীদ ভগৎ সিং এর অন্যতম সহযোগী।
প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]
অজয় ঘোষ বর্ধমান জেলার মিহিজামে জন্মগ্রহণ করেন।[১] পিতার নাম শচীন্দ্রনাথ ঘোষ। চিকিৎসক পিতার সাথে কানপুরে তার ছোটবেলা অতিবাহিত হয়। ১৯২৬ সালে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের আগেই ভগৎ সিং, বটুকেশ্বর দত্ত প্রমুখের সাথে আলাপ হয়। রসায়ন শাস্ত্রে এম এস সি পড়ার সময় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি।[২]
রাজনীতি[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]
১৯২৮ সালে বিপ্লবী ভগৎ সিং, ফণী ঘোষ সহ হিন্দুস্থান সোশালিস্ট রিপাবলিকান এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন।[৩] ১৯২৯ সালে লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত হন অজয়, প্রমাণাভাবে মুক্তি পান। মানবেন্দ্রনাথ রায়ের সাথেও কাজ করেছেন অজয় ঘোষ। ১৯৩১ সালে আবার গ্রেপ্তার হন ও ১৯৩৩ সালে মুক্তি পেয়ে কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। ১৯৩৪ সালে অজয় ঘোষ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ১৯৩৬ সালে পলিটব্যুরোর সদস্য হন। ১৯৩৮ সালে দলের মুখপত্র ন্যাশনাল ফ্রন্টের সম্পাদক হয়েছিলেন তিনি। আদিবাসী সমস্যা, আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলন, লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা ইত্যাদি বিষয়ে বহু উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক প্রবন্ধ ও বই লিখেছেন তিনি।[২] ১৯৫১ সালে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আমৃত্যু সেই পদে থাকেন। তিনি ছিলেন পূর্ববর্তী নেতা বি টি রনদিভের পার্টী লাইনের কঠোর সমালোচক।[৪] ১৯৬২ সালে ভারত-চীন যুদ্ধ শুরু হলে অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান নেতা অজয় ভারতপন্থী অবস্থান নেন।[৫][৬]
মৃত্যু[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]
দেউলি বন্দীনিবাসে থাকাকালীন যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হন অজয় ঘোষ। জওহরলাল নেহ্রু ও অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের চেষ্টায় মুক্তি পান ও রাঁচিতে স্বাস্থ্য উদ্ধার করতে যান। ১৩ জানুয়ারি, ১৯৬২ সালে তার মৃত্যু ঘটে।
তথ্যসূত্র[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]
- ↑ রায়, প্রকাশ (২০২১)। বিস্মৃত বিপ্লবী দ্বিতীয় খণ্ড। চেন্নাই: নোশনপ্রেস চেন্নাই তামিলনাড়ু। পৃষ্ঠা ২০–২৩। আইএসবিএন 9781638326915।
- ↑ ২.০ ২.১ প্রথম খন্ড, সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত (২০০২)। সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান। কলকাতা: সাহিত্য সংসদ। পৃষ্ঠা ৫।
- ↑ অমলেশ ত্রিপাঠী। "স্বাধীনতার মুখ"। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭।
- ↑ এবনে গোলাম সামাদ। "বাম-বিচ্যুতি : খাপরা ওয়ার্ড"। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭।
- ↑ ভারত-চীন সীমান্ত বিরোধ এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি: রেজোলিউশন, বিবৃতি এবং বক্তৃতা, ১৯৫৯-১৯৬৩ (ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি, ১৯৬৩), ৬১-৯৬
- ↑ “The Sino-Indian Border Dispute,” বি. ৬৪৪ (আর) নভেম্বর, ১৯৬২, ৪, ভারত, ৪-এর ৩ নং সিপিআর ১২-৬১-১২-৬২ ফোল্ডার, পেপারস অফ প্রেসিডেন্ট কেনেডি, ন্যাশনাল সিকিউরিটি ফাইল, রবার্ট কোমার, বক্স ৪২০, জন এফ কেনেডি লাইব্রেরি।