বিষয়বস্তুতে চলুন

আকবর

ভারতপিডিয়া থেকে
আকবর
মহামতি আকবর
মনোহার দ্বারা ১৬ শতকের শেষ ভাগে আঁকা আকবরের প্রতিকৃতি
৩য় মোঘল সম্রাট
রাজত্ব১১ ফেব্রুয়ারি ১৫৫৬ – ২৭ অক্টোবর ১৬০৫[][]
রাজ্যাভিষেক১৪ ফেব্রুয়ারি ১৫৫৬[]
পূর্বসূরিহুমায়ুন
উত্তরসূরিজাহাঙ্গীর
রাজপ্রতিভূবৈরাম খাঁ (১৫৫৬–১৫৬১)
জন্মজালালুদ্দিন মুহাম্মদ আকবর
(১৫৪২-১০-১৫)১৫ অক্টোবর ১৫৪২[lower-alpha ১]
মৃত্যু২৭ অক্টোবর ১৬০৫(1605-10-27) (বয়স ৬৩)
ফতেহপুর সিক্রি, আগ্রা
সমাধি
পত্নীগণমরিয়ম-উজ-জামানি বেগম
রুকাইয়া সুলতান বেগম
সেলিমা সুলতান বেগম
বেগম রাজ কানয়ারি বাই
বেগম নাথি বাই
কুশমিয়া বানু বেগম
বিবি দৌলত শাদ বেগম
রাজিয়া সুলতান বেগম
আরোও পাঁচজন স্ত্রী
বংশধরহাসান
হুসাইন
জাহাঙ্গীর
মুরাদ
দানিয়াল
আরাম বানু বেগম
শাকার-উন-নিসা বেগম
শেহজাদী খানুম
পূর্ণ নাম
মির্জা আব্দুল ফত্হ জালালুদ্দিন মুহাম্মদ আকবর
রাজবংশমুঘল রাজবংশ
পিতাহুমায়ুন
মাতাহামিদা বানু বেগম
ধর্মদীন-ই-ইলাহি[]
জালালুদ্দিন মুহাম্মদ আকবর

জালালুদ্দিন মুহাম্মদ আকবর ( নাস্তালিক: جلال الدین محمد اکبر الاعظم(হিন্দি: 'जलालुद्दीन मोहम्मद अकबर' ) ভারতবর্ষের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক। পৃথিবীর ইতিহাসমহান শাসকদের অন্যতম মহামতি আকবর নামেও পরিচিত। তিনি মুঘল সাম্রাজ্যের তৃতীয় সম্রাট। পিতা সম্রাট হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে আকবর ভারতের শাসনভার গ্রহণ করেন। বৈরাম খানের তত্ত্বাবধানে তিনি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্রাজ্য বিস্তার করতে থাকেন। ১৫৬০ সালে বৈরাম খাঁকে সরিয়ে আকবর নিজে সকল ক্ষমতা দখল করেন। কিন্তু আকবর ভারতবর্ষআফগানিস্তানে তার সাম্রাজ্য বিস্তার চালিয়ে যান। ১৬০৫ সালে তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় সমস্ত উত্তর ভারত তার সাম্রাজ্যের অধীনে চলে আসে। আকবরের মৃত্যুর পর তার পুত্র সম্রাট জাহাঙ্গীর ভারতবর্ষের শাসনভার গ্রহণ করেন।

পারিবারিক জীবন[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

যোঁধা বাঈ

সাম্রাজ্যের রাজপুতদের সাথে সুসম্পর্ক রাখার স্বার্থে আকবর বিভিন্ন রাজবংশের রাজকন্যাদের বিয়ে করেন। তবে তার স্ত্রীদের মধ্যে সবচাইতে আলোচিত হলেন যোঁধা বাঈ[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

আকবরের শাসন ব্যবস্থা[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

আমলাতন্ত্র[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

রাজ্য শাসনের জন্য আকবর আমলাতন্ত্র চালু করেন এবং প্রদেশগুলোকে স্বায়ত্বশাসন দান করেন। আকবরের আমলাতন্ত্র বিশ্বের সবথেকে ফলপ্রসূ আমলাতন্ত্রের মধ্যে অন্যতম। তিনি প্রত্যেক অঞ্চলে সামরিক শাসক নিয়োগ দেন। প্রত্যেক শাসক স্বশাসিত প্রদেশের সেনাবাহিনীর দায়িত্বে ছিলেন। সম্রাট আকবর শাসিত সাম্রাজ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারের শাস্তি ছিল একমাত্র মৃত্যুদন্ড

অর্থনীতি[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

রাজপুতদের সাথে সম্পর্ক[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

আকবর বুঝতে পেরেছিলেন, যে রাজপুতরা শত্রু হিসাবে প্রবল, কিন্তু মিত্র হিসাবে নির্ভরযোগ্য। আকবরের শাসনকালে তিনি রাজপুতদের সাথে সন্ধি করার প্রয়াস করেছিলেন। কিছুটা যুদ্ধের দ্বারা, এবং অনেকটাই বিবাহসূত্রের দ্বারা তিনি এই প্রয়াসে সফল হয়েছিলেন। অম্বরের রাজা ভর মল্লের কন্যা জোধাবাঁঈ-এর সাথে তার বিবাহ হয়। ভর মল্লের পুত্র রাজা ভগবন দাস আকবরের সভায় নবরত্নের একজন ছিলেন। ভগবন দাসের পুত্র রাজা মান সিংহ আকবরের বিশাল সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন। রাজা টোডর মল্ল ছিলেন আকবরের অর্থমন্ত্রী। আরেক রাজপুত, বীরবল, ছিলেন আকবরের সবচেয়ে কাছের বন্ধু ও প্রিয়পাত্র। বেশিরভাগ রাজপুত রাজ্য যখন আকবরের অধীনে চলে আসছে, তখন একমাত্র মেওয়ারের রাজপুত রাজা মহারানা উদয় সিংহ মুঘলদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। চিতোরের পতনের পর তিনি উদয়পুর পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে রাজপুতদের একত্রিত করতে চেষ্টা করেন। তার পুত্র মহারানা প্রতাপ সিংহ সারা জীবন মুঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন। প্রতাপ আকবরের আনুগত্য মেনে না নিলেও, চিত্ত্বর দুর্গে আকবর আক্রমণ করার পর তারা পালিয়ে যায় এবং উদয়পুরে রাজ্য স্থাপন করে। এবং রাজপুতদের কখনো একত্রিতও করতে পারেনি। এছাড়াও প্রতাপ সিং চিত্ত্বর দুর্গ পুনঃরুদ্ধার করতে পারেনি। মেবারের রাজপুতরাই একমাত্র রাজপুত জাত যারা রাজ্য হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে তবুও আকবরের প্রতি আনুগত্য মেনে নেয় নি। আকবর প্রতাপের বোন কওম কে বিয়ে করতে চেয়েছেন কিন্ত পারেননি।

বাংলা শাসন ব্যবস্থা[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

আকবরের ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

আকবর তার নিজস্ব ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গী থেকে দীন-ই-ইলাহি নামক ধর্ম চালু করার চেষ্টা করেন।

দীন-ই-এলাহির প্রাথমিক শিষ্যরা হলো, আকবরের সময়কালে (পৃ. ১৮৬):[]

আকবরের নবরত্ন সভা[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

আকবরের সভাসদদের মধ্যে নবরত্ন হিসেবে যারা ইতিহাসখ্যাত হয়ে আছেন,

  • রাজা টোডরমল
  • তানসেন
  • বীরবল
  • আবুল ফজল
  • কবি ফৈজি
  • আব্দুল রহিম খান
  • ফকির আজিওদ্দিন
  • সেনাপতি মানসিংহ
  • মোল্লা দো-পিঁয়াজা

মোঘল সম্রাটদের উদ্দিন উপাধি গ্রহনের কারণ[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

Ad-Din (উপাধি) এই পাতাটি পড়ুন । মোগল সম্রাট আকবর ।

চিত্রশালা[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

আকবরের সমাধিসৌধ, সিকান্দ্রা, আগ্রা

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ Eraly, Abraham (২০০৪)। The Mughal Throne: The Saga of India's Great Emperors। Phoenix। পৃষ্ঠা 115, 116। আইএসবিএন 9780753817582 
  2. "Akbar (Mughal emperor)"। Encyclopedia Britannica Online। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০১৩ 
  3. Smith 1917, পৃ. 18–19
  4. Eraly, Abraham (২০০০)। Emperors of the Peacock Throne : The Saga of the Great Mughals। Penguin books। পৃষ্ঠা 189আইএসবিএন 9780141001432 
  5. "Akbar"। The South Asian। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মে ২০০৮ 
  6. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; MLR নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

সম্রাট আকবর মনসবদারী প্রথা চালু করেন

উইকিমিডিয়া কমন্সে আকবর সম্পর্কিত মিডিয়া দেখুন।

পূর্বসূরী:
সম্রাট হুমায়ুন
মুঘল সম্রাট
১৫৫৬১৬০৫
উত্তরসূরী:
সম্রাট জাহাঙ্গীর


উদ্ধৃতি ত্রুটি: "lower-alpha" নামক গ্রুপের জন্য <ref> ট্যাগ রয়েছে, কিন্তু এর জন্য কোন সঙ্গতিপূর্ণ <references group="lower-alpha"/> ট্যাগ পাওয়া যায়নি