বিষয়বস্তুতে চলুন

মিয়ানমার

স্থানাঙ্ক: ২২° উত্তর ৯৬° পূর্ব / ২২° উত্তর ৯৬° পূর্ব / 22; 96
ভারতপিডিয়া থেকে
প্রজাতান্ত্রিক ঐক্যতন্ত্রী মিয়ানমার

  • লুয়া ত্রুটি package.lua এর 80 নং লাইনে: module 'মডিউল:ইউনিকোড তথ্য' not found।
  • পিদাউঁজু সাঁমাডা মিয়ামা নাইঁঙাঁডো
মিয়ানমার, মায়ানমার, বর্মা, বার্মা, ব্রহ্মদেশের জাতীয় পতাকা
পতাকা
মিয়ানমার, মায়ানমার, বর্মা, বার্মা, ব্রহ্মদেশের জাতীয় মর্যাদাবাহী নকশা
জাতীয় মর্যাদাবাহী নকশা
সঙ্গীত: 
 মিয়ানমার-এর অবস্থান (সবুজ)

আসিয়ান-এ (গাঢ় ধূসর)  –  [ব্যাখ্যা]

অবস্থাঅস্বীকৃতিপ্রাপ্ত সরকারশাসিত জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র
রাজধানীনেপিডো[a]
১৯°৪৫′ উত্তর ৯৬°৬′ পূর্ব / ১৯.৭৫০° উত্তর ৯৬.১০০° পূর্ব / 19.750; 96.100
বৃহত্তম নগরীইয়াঙ্গুন[b]
সরকারি ভাষাবর্মী
সরকারী লিপিবর্মী লিপি
জাতীয়তাসূচক বিশেষণবর্মী []
সরকারসামরিক জান্তার অধীনে একটি অন্তর্বর্তীকালীন স্বতন্ত্র সংসদীয় সরকার
মিন্ট সুয়ি (অস্থায়ী)
মিন অং হ্লাইং
• SAS-এর উপ-চেয়ারম্যান ও উপ-প্রধানমন্ত্রী
শো উইন
আইন-সভাপিডাংজু লুটো
আমুতা লুটো
পিথু লুটো
প্রতিষ্ঠা
আনু. ১৮০ খ্রিষ্টপূর্ব
২৩ ডিসেম্বর ৮৪৯
১৬ অক্টোবর ১৫১০
২৯ ফেব্রুয়ারি ১৭৫২
১ জানুয়ারি ১৮৮৬
• ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা
৪ জানুয়ারি ১৯৪৮
২ মার্চ ১৯৬২
• "বার্মা" থেকে "মিয়ানমার" নামকরণ
১৮ জুন ১৯৮৯
• রাষ্ট্রপতি শাসন পুনরুদ্ধার
৩০ মার্চ ২০১১
১ ফেব্রুয়ারি ২০২১
আয়তন
• মোট
৬,৭৬,৫৭৮ কিমি (২,৬১,২২৮ মা) (৩৯তম)
• পানি/জল (%)
৩.০৬
জনসংখ্যা
• জুলাই ২০১৫ আনুমানিক
৬০,০৭৭,৬৮৯ (২৪তম)
• ২০১৭ আদমশুমারি
৫,৩৫,৮২,৮৫৫ (২০১৭)[] (২৬তম)
• ঘনত্ব
৭৬ /কিমি (১৯৬.৮ /বর্গমাইল) (১২৫তম)
জিডিপি (পিপিপি)২০১৯ আনুমানিক
• মোট
বৃদ্ধি $৩৫৫ বিলিয়ন[] (৫১তম)
• মাথাপিছু
হ্রাস $৬,৭০৭[] (১২৮তম)
জিডিপি (মনোনীত)২০১৯ আনুমানিক
• মোট
বৃদ্ধি $৬৬ বিলিয়ন[] (৭২তম)
• মাথাপিছু
বৃদ্ধি $১,২৪৫[] (১৫৫তম)
জিনি (২০১৫)৩৮.১[]
মাধ্যম
এইচডিআই (২০১৯)হ্রাস ০.৫৮৩[]
মধ্যম · ১৪৭তম
মুদ্রাক্যত (MMK)
সময় অঞ্চলইউটিসি+৬:৩০ (মিয়ানমারের মান সময়)
গাড়ী চালনার দিকডান
কলিং কোড+৯৫
আইএসও ৩১৬৬ কোডMM
ইন্টারনেট টিএলডি.mm
  1. ^ নে-প্যি-ড-ও
  2. ^ বিশ্বে অনেক দেশ ইয়াঙ্গুনকে মিয়ানমারের রাজধানী মনে করে

মিয়ানমার[lower-alpha ১] বা মায়ানমার[lower-alpha ২], প্রাক্তন নাম ও কথ্যরূপ বর্মা[lower-alpha ৩] বা বার্মা[lower-alpha ৪], হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার[lower-alpha ৫] একটি রাষ্ট্র। মিয়ানমারের আনুষ্ঠানিক নাম হলো প্রজাতান্ত্রিক ঐক্যতন্ত্রী মিয়ানমার[lower-alpha ৬]। মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডো[lower-alpha ৭]। তৎকালীন বার্মার গণতান্ত্রিক সরকারের উৎখাতের পর ১৯৮৯ সালে সেখানকার সামরিক সরকার বার্মার নতুন নামকরণ করে "মিয়ানমার" এবং প্রধান শহর ও তৎকালীন রাজধানী রেঙ্গুনের নতুন নাম হয় "ইয়াঙ্গুন"। তবে গণতান্ত্রিক দলগুলোর অনেক অনুসারীই এই নামকরণের বিপক্ষে। ২১ অক্টোবর ২০১০ থেকে দেশটির জাতীয় সঙ্গীত ও নতুন জাতীয় পতাকা প্রবর্তন করা হয়।

ব্যুৎপত্তি[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

বার্মা নামটি ব্রহ্মদেশ নামটির সঙ্গে সম্পর্কিত। সংস্কৃত ভাষায় এই দেশটি "ब्रह्मदेश" ("ব্রহ্মদেশ") নামে পরিচিত। বর্মী ভাষায় দেশটিকে "মিয়ানমা" নামে ডাকা হয়। চৈনিক ভাষায় (মান্দারিন) এর নাম "মিআন" বা "মিআনদিআন"আসামে একে "মান দেশ" বলে।

ইতিহাস[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

প্রাচীন ইতিহাস[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

পিয়ু রাজ্যসমূহ, খ্রিষ্টপূর্ব ২ শতকে গড়ে উঠা বর্তমান মিয়ানমার অঞ্চলের প্রথম নগররাষ্ট্র

প্রায় ১৩ হাজার বছর আগে বর্তমান মিয়ানমারে জনবসতির অবস্থান সর্ম্পকে জানা যায়। পিয়ু নামের উপজাতিরা ১ম শতকে বার্মা এলাকাতে দক্ষিণ দিকের ইরাবতী উপত্যকা দিয়ে প্রবেশ করে। অপর দিকে উত্তর দিক দিয়ে মুন জাতি প্রবেশ করে। ৯ম শতকে "মিরানমা" জাতি ইরাবতী উপত্যকার উপরে বসবাস শুরু করে।

পাগান রাজ্য ও টংগু সাম্রাজ্য[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

টঙ্গু সাম্রাজ্য (১৫৮০)।

১৩ শতকের দিকে মায়ানমারে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন রাজ্য সৃষ্টি হয়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল: আভা, আরাকান, হানথাবতী প্রভৃতি। টঙ্গু সাম্রাজ্য প্রথম ১৫শ শতকে বার্মাকে একত্রীকরণ করে। ১৮শ শতকে ব্রিটিশরা বার্মা দখল করে নেয়। ১৯৪৮ সালে বার্মা স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৬২ সালে দেশটিতে প্রথম সামরিক সরকার ক্ষমতায় অসীন হয়।

মোন গোষ্ঠীকে ইরাওয়াদি (সংস্কৃত ইরাবতী) উপত্যকায় আবাস গড়া প্রথম জনগোষ্ঠী মনে করা হয়। খ্রীস্টপূর্ব নবম শতকের মাঝে তারা দক্ষিণ মায়ানমারে আধিপত্য বিস্তার করে। []

খ্রীস্টপূর্ব প্রথম শতকে পিয়ুদের আগমন ঘটে। খ্রীস্টিয় অষ্টম শতকে তারা নানঝাও রাজ্যের আক্রমণের শিকার হয়। খ্রীস্টিয় নবম শতকের পূর্বে কোনসময়ে বর্মীরা বর্তমান তিব্বত থেকে ইরাওয়াদি উপত্যকায় আসা শুরু করে। ৮৪৯ সালের মধ্যে তারা পাগানকে কেন্দ্র করে শক্তিশালী রাজ্য গড়ে তোলে যা একসময় বর্তমান মায়ানমারের প্রায় সম্পূর্ণ এলাকাজুড়ে বিস্তার লাভ করে। ১১০০ সালের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহৎ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে আসে।

দ্বাদশ শতাব্দীর শেষাংশে কুবলাই খান পাগান রাজ্য দখল করেন। ১৩৬৪ সালে বর্মীরা রাজত্ব পুনরুদ্ধার করে।

কোনবং রাজবংশের শাসন (১৭৫২-১৮৮৫)[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

ব্রিটিশ বার্মা (১৮৮৫ - ১৯৪৮)[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

ব্রিটিশ বার্মার প্রশাসনিক মানচিত্র (১৯৩১)।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিয়ানমারে জাপানিদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তি। রেঙ্গুন তথা বার্মা ১৯৪২-৪৫ পর্যন্ত সময়ে জাপানিদের দখলে ছিল। জাপানিদের তত্ত্বাবধানেই তৈরি হয়েছিল বার্মা ইনডিপেনডেন্ট আর্মি। জাপানি বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিলেন জেনারেল অং সান এবং বার্মা ইনডিপেনডেন্ট আর্মি। তাদের উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন বার্মা থেকে ব্রিটিশ শাসনের উৎখাত। পরে জাপানিদেরও বিতাড়িত করে বার্মাকে স্বাধীন করা। ওই সময়ে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস কয়েকবার অং সানের সঙ্গে রেঙ্গুনে গোপন বৈঠকও করেছিলেন। দুজনের মধ্যে একধরনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল একযোগে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্ব-স্ব দেশকে স্বাধীন করতে কাজ করার।

এ দুজনের মধ্যে মধ্যস্থতায় ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মি. দিনা নাথ, যাঁর বার্মিজ নাম ছিল দত্ত কাহন থেইন থেইয়েন। তিনি তার রেঙ্গুনের বাড়িটির একাংশ ছেড়ে দিয়েছিলেন অং সানকে তার অফিস হিসেবে ব্যবহার করতে। এখানেই গোপন বৈঠক হয় সুভাষ বোস ও অং সানের। ‘হাউস অব মেমোরি’ নামে পরিচিত এবং বার্মার তথা ভারতের স্বাধীনতাসংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মি. দিনা নাথ পরে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত দিল্লির লাল কেল্লায় এক বছর কারাভোগে ছিলেন। পরে দিনা নাথকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নেহেরু ভারতের সর্বোচ্চ খেতাবে ভূষিত করেছিলেন।

জাপানি সৈন্যরা অধিকৃৃত বার্মায়

তৎকালীন বার্মা ভারতের স্বাধীনতার প্রায় এক বছর পর ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি স্বাধীনতা লাভ করে। জেনারেল অং সান স্বাধীনতার কয়েক মাস আগে জুলাই ১৯৪৭ সালে কথিত বিরোধী আততায়ীর হাতে মৃত্যুবরণ করেন।

আততায়ীর হাতে মৃত্যুর আগে অং সান যে কয়টি কাজ করে গিয়েছিলেন তার মধ্যে প্রধান ছিল বার্মার পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং বিবদমান তিনটি গোষ্ঠীর—শান, কারেন ও চিনাদের সঙ্গে স্বায়ত্তশাসন নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো। এসব উপজাতীয় অঞ্চল এবং উপজাতীয়রা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির সঙ্গে সহযোগিতায় ছিল, বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, স্বাধীন সত্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশের জন্য। কিন্তু তেমনটা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তি করেনি। কেন ওই সব অঞ্চলকে স্বাধীন করেনি তার প্রধান কারণ চীনের সঙ্গে বর্তমানে এই তিন রাজ্যের ভূকৌশলগত অবস্থান।

অং সান পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতার যে সংগ্রামে লিপ্ত ছিলেন, তার অন্যতম সহযোগী ছিলেন বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতা, যাঁরা নিজেরাও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে ছিলেন। এছাড়াও অং সানের বিপ্লবী কার্যকলাপের অন্যতম সাথীদের একটা বিরাট অংশই ছিল বাঙালী। কর্মসূত্রে প্রচুর বাঙালী বর্মার বিভিন্ন অঞ্চলে থাকতেন, তাদের মধ্যে কিছু সাম্যবাদী চিন্তাধারার তরুন বর্মা কমিউনিস্ট পার্টির গুরুত্বপূর্ণ স্থান অলংকৃত করেছিলেন। হরিনারায়ণ ঘোষাল, ডাক্তার অমর নাগ, সুবোধ মুখার্জী, অমর দে প্রমুখ ছিলেন অং সানের সাথী বাঙালি বিপ্লবী নেতা। ১৯৪৭ সালে অং সান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লেমেন্ট এটলির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে বার্মার স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন। এর ঠিক দুই সপ্তাহ পরে অং সান প্যানগ্লোনগ কনফারেন্সে তিন গ্রুপের সঙ্গে স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার চুক্তি করেন। কারণ, তিনি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসকদের বার্মা বিভাজনের কোনো অজুহাতই দিতে চাননি।

মেজর জেনারেল অং সান (১৯১৫-১৯৪৭), মায়ানমারের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান নেতা ও সমরনায়ক

স্বাধীনতা-পরবর্তী যুগ (১৯৪৮-১৯৬২)[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

চিত্র:Sao Shwe Thaik and Hubert Elvin Rance.jpg
৪ জানুয়ারি, ১৯৪৮ সালে মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবস অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ বার্মার শেষ গভর্নর হাবার্ট র‍্যান্স এবং তার সঙ্গে স্বাধীন বার্মার প্রথম রাষ্ট্রপতি শ্বে থাইক।
চিত্র:U Nu portrait.jpg
উ নু, স্বাধীন বার্মার প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন ১৯৪৮ সালে।

বার্মা স্বাধীন হয়েছিল অং সানের মৃত্যুর পর। ১৯৪৮ থেকে ১৯৬২ পর্যন্ত বার্মা চারটি বহুদলীয় নির্বাচন দেখেছে কিন্তু অং সানের সঙ্গে সম্পাদিত তিন প্রধান উপজাতীয়দের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি। উপরন্তু বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য অঞ্চলে, যার মধ্যে রোহিঙ্গা–অধ্যুষিত আরাকান, যার বর্তমান নাম রাখাইন অঞ্চলও যুক্ত হয়।

সমাজতন্ত্র ও সামরিক শাসন (১৯৬২-২০১১)[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

চিত্র:President Ne Win Portrait.JPG
নে উইন, মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি। মিয়ানমারে ২৫ বছরের সমাজতান্ত্রিক শাসনের তিনিই সূচনা করেন।

১৯৬২ সালের ২ মার্চ মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ক্ষমতা দখল করে। সামরিক জান্তার প্রধান ছিলেন নে উইন। তারা ২৭ মে ১৯৯০ সালে প্রথম নির্বাচন দেয়। এ নির্বাচনে অং সান সু চি এর দল "ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি" ৪৯২ টি অাসনের মধ্যে ৩৯২টি আসন পায়। কিন্তু নির্বাচনী আইনের মাধ্যমে তা বাতিল করা হয়। রেঙ্গুন নামটি ১৯৮৯ সালে সামরিক শাসকেরা পরিবর্তন করে রাখেন ইয়াঙ্গুন। নভেম্বর ২০০৫ সালে ইয়াঙ্গুন দেশের রাজধানীর মর্যাদা হারায়। বর্তমানে বার্মা বা মিয়ানমারের রাজধানী ইয়াঙ্গুন থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরে অত্যন্ত পরিকল্পিত নতুন শহর নেপিডোতে

২০০৭ সালে সাফোন আন্দোলনের সময় রেঙ্গুনে আন্দোলনকারীরা

২০১১-বর্তমান[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

থিন সিনের রাষ্ট্রপতিত্ব[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

থিন সিন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী, অনেকেই তাকে সামরিক জান্তা সরকারের পতনের পর মিয়ানমারের সাংবিধানিক পূণর্গঠনের অগ্রদূত মনে করেন।

অং সান সূ চীর শাসনামল (২০১৬-২০২১)[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

অং সান সু চি, মিয়ানমারের প্রথম রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা হন ২০১৬ সালে।

সামরিক শাসন (২০২১-বর্তমান)[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থান.[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]
জেনারেল মিন অং হ্লাইং, ২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন তিনি।

রাজনীতি[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

মিয়ানমারের জাতীয় সংসদ- অ্যাসেম্বলি অফ দ্য ইউনিয়ন

সুদীর্ঘ সামরিক শাসনের ইতি ঘটিয়ে ২০১৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি হলো ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি এবং ইউনিয়ন সংহতি ও উন্নয়ন পার্টি।

২০০৮ সালের মে মাসে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী খসড়া সংবিধান অনুমোদিত হয়েছিল। ২৯ মিলিয়ন ভোটারের মধ্যে ৯৯.৪% সরকারী ভোটগ্রহণের ৯৯.৪%, বহু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং ন্যাশনাল লিগ অফ ডেমোক্রেসি কর্তৃক বিস্তৃত রিপোর্টের দ্বারা সন্দেহজনক বলে গণ্য হয়েছে জালিয়াতি, ব্যালট স্টাফিং এবং ভোটারদের ভয় দেখানো।

২০১০ সালের নির্বাচনের ফলে সামরিক-সমর্থিত ইউনিয়ন সংহতি ও উন্নয়ন দলের পক্ষে একটি বিজয় হয়েছিল। বিভিন্ন বিদেশী পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। নির্বাচনের একটি সমালোচনা ছিল যে কেবল সরকার অনুমোদিত অনুমোদিত রাজনৈতিক দলগুলিকে এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং গণতন্ত্রের জনপ্রিয় জাতীয় লীগকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে নির্বাচনের অবিলম্বে সরকার গণতন্ত্রের অ্যাডভোকেট এবং জাতীয় লীগ ফর ডেমোক্রেসির নেতা অং সান সু চি'র গৃহবন্দীকরণের অবসান ঘটিয়েছে এবং দেশজুড়ে অবাধে চলাফেরা করার ক্ষমতাটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসাবে বিবেচনা করা হয় আরও খোলামেলা দিকে সামরিক আন্দোলন। ২০১১ সালে অপ্রত্যাশিত সংস্কারের পরে, এনএলডি জ্যেষ্ঠ নেতারা একটি রাজনৈতিক দল হিসাবে নিবন্ধকরণ এবং ভবিষ্যতে উপনির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মিয়ানমারের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস বিরোধী দলগুলির মধ্যে গণতান্ত্রিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করার সংগ্রামের দ্বারা আচ্ছাদিত। নিবিড়ভাবে অনুষ্ঠিত সামরিক শাসন থেকে একটি মুক্ত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এই রাজনৈতিক রূপান্তর মিয়ানমারের ভবিষ্যত নির্ধারণ করে বলে ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয়। ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে অং সান সু চির ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির অবিচ্ছিন্ন বিজয় এই উত্তরণের সফল সমাপ্তির জন্য আশা জাগিয়ে তুলেছে।

মায়ানমার দুর্নীতি অনুধাবন সূচকে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসাবে বিশ্বব্যাপী ১৬৬ টি দেশের মধ্যে ১৩৩ তম স্থান পেয়েছে এবং ২০১ -2016 সালের মধ্যে ১ ম সংখ্যায় সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত হয়েছে।

সামরিক শক্তি[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

মায়ানমার সামরিক বাহিনী তাতমাডও নামে পরিচিত। মিগ্-২৯SM ধরণের ৩০ টি যুদ্ধ বিমান রয়েছে যা বিমান বাহিনীর প্রধান যুদ্ধবহর। নৌবহরে ভারতীয় সিন্ধুবীর ডুবোজাহাজ ক্রয়ের কথা চলছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

উ থান্ট, একজন বর্মী রাজনীতিবিদ ও জাতিসংঘের তৃৃতীয় মহাসচিব।
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থিন সিন এবং রেঙ্গুন সফররত হিলারি ক্লিন্টন

ভারত[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

বাংলাদেশ[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

উত্তর কোরিয়া[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

চীন[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

১৯৪৯ সালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত চীনের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক ছিল মিয়ানমারের[]। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিদ্রোহী কমিউনিস্ট পার্টি অব বার্মা (সিপিবি)-এর মূল পৃষ্ঠপোষক ছিল চীন। ১৯৭৮ সালে চীনা নেতা দেং জিয়াও পেং মায়ানমার সফরে আসেন। ১৯৮৬ তে সিপিবির ওপর থেকে সম্পূর্ণ সমর্থন তুলে নেয় চীন। বৈরী সম্পর্ক দারুণভাবে সহযোগিতার দিকে নতুন মোড় নেয়। তারা তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগসহ বাণিজ্যিক সুবিধা পায়। এ সময় চীন সামরিকভাবে মিয়ানমারকে সহায়তা করতে থাকে। ১৯৮৯ সালে মিয়ানমার চীন থেকে ১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় করে।[] ভারতের ওপর ভূরাজনৈতিক কৌশলগত সুবিধা বাড়াতে মায়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয় চীনের। মায়ানমারের অভ্যন্তরে জাতিগত বিদ্রোহ, বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন দমনে মায়ানমারকে বহুমুখী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় চীন। চীনের সমর্থন মায়ানমারের সামরিক জুন্তাকে অধিকতর শক্তিশালী করে। তারা এই সুযোগকে ব্যবহার করে দেশের মধ্যে যেমন তাদের ক্ষমতা বাড়ায়, তেমনি একটি শক্তিশালী সমরশক্তির দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে চীনের সর্বোচ্চ সহায়তা পেতে থাকে।

সোভিয়েত ইউনিয়ন[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

মিয়ানমারের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা
  মিয়ানমারের রাজ্যসমূহ

  মিয়ানমারের বিভাগসমূহ

মায়ানমার দেশটি মূল মিয়ানমার অঞ্চল এবং আরও সাতটি রাজ্য নিয়ে গঠিত। এগুলি হলো চিন, কাচিন, কারেন, মন, রাখাইন (আরাকান) এবং শান। মূল বার্মা সাতটি বিভাগে বিভক্ত - ইরাবতী, মাগওয়ে, মান্দালয়, ব্যাগো, রেংগুন, সাগাইং, এবং তেনাসসেরিম।

ভূগোল[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

মিয়ানমারের একটি টপোগ্রাফিক মানচিত্র।

আয়তন ও ভূ-প্রকৃৃতি[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

মিয়ানমারের মোট আয়তন ৬৭৬,৫৫২ বর্গকিলোমিটার। উত্তর-দক্ষিণে এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২,০৮৫ কিলোমিটার। পূর্ব-পশ্চিমে এর সর্বোচ্চ বিস্তার প্রায় ৯৩০ কিলোমিটার। উপকূলীয় এলাকাটি নিম্ন মিয়ানমার এবং অভ্যন্তরীণ অংশটি ঊর্ধ্ব মিয়ানমার নামে পরিচিত। অশ্বখুরাকৃতি পর্বতব্যবস্থা ও ইরাবতী নদীর উপত্যকা দেশটির ভূ-সংস্থানের প্রধান বৈশিষ্ট্য। উত্তরের পর্বতগুলির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হকাকাবো রাজি-র উচ্চতা ৫,৮৮১ মিটার। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। আরও দুইটি পর্বতব্যবস্থা উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত। আরাকান ইয়োমা পর্বতমালাটি মিয়ানমার ও ভারতীয় উপমহাদেশের মধ্যে একটি প্রাচীরের সৃষ্টি করেছে। এর পর্বতগুলির উচ্চতা প্রধানত ৯১৫ মিটার থেকে ১,৫২৫ মিটার পর্যন্ত হয়। অন্যদিকে শান মালভূমি থেকে বিলকাতং পর্বতশ্রেণীটি প্রসারিত হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব নিম্ন মিয়ানমার এবং দক্ষিণ-পশ্চিম থাইল্যান্ডের সীমান্ত বরাবর চলে গেছে। শান মালভূমিটি চীন থেকে প্রসারিত হয়েছে এবং এর গড় উচ্চতা প্রায় ১,২১৫ মিটার।

মিয়ানমারের অভ্যন্তরভাগে কেন্দ্রীয় নিম্নভূমিগুলি মূলত সরু ও দীর্ঘ। এগুলি ইরাবতী-সিত্তাং নদীর ব-দ্বীপ এলাকায় প্রায় ৩২০ কিলোমিটার প্রশস্ত। এই ব-দ্বীপীয় সমভূমিগুলি অত্যন্ত উর্বর এবং দেশের সবচেয়ে অর্থনৈতিক গুরুত্ববিশিষ্ট অঞ্চল। এদের মোট আয়তন প্রায় ৪৭,০০০ বর্গকিলোমিটার। মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমের আরাকান উপকূল এবং দক্ষিণ-পশ্চিমের তেনাসসেরিম উপকূল উভয়েই শিলাময় এবং এগুলির কাছে অনেক দ্বীপ অবস্থিত। মিয়ানমারে বেশ কিছু উৎকৃষ্ট প্রাকৃতিক পোতাশ্রয় আছে।

সীমানা[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

মায়ানমার ৬৭৮,৫০০ বর্গকিলোমিটার (২৬১,৯৭০ বর্গমাইল) এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। মায়ানমারের পশ্চিমে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগ এবং ভারতের মিজোরাম, উত্তর-পশ্চিমে ভারতের আসাম, নাগাল্যান্ডমণিপুর অবস্থিত। মায়ানমারের সীমানার উত্তর-পূর্বাংশের ২,১৮৫ কিলোমিটার জুড়ে আছে তিব্বত এবং চীনের ইউনান প্রদেশ। দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে লাওসথাইল্যান্ড। দক্ষিণ-পশ্চিম এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরআন্দামান সাগরের সাথে মায়ানমারের ১,৯৩০ কিলোমিটার উপকূল রেখা রয়েছে।

আবহাওয়া ও জলবায়ু[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

মায়ানমারের অধিকাংশই কর্কটক্রান্তিবিষুবরেখার মাঝে অবস্থিত। ব-দ্বীপ অঞ্চলে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ প্রায় ২,৫০০ মিলিমিটার (৯৮ ইঞ্চি), তবে মধ্য মায়ানমারের শুষ্ক এলাকায় তা ১,০০০ মিলিমিটারের কম। উত্তরের অপেক্ষাকৃত শীতল এলাকায় গড় তাপমাত্রা ২১ °সেলসিয়াস। উপকূলীয় ও ব-দ্বীপ এলাকায় গড় তাপমাত্রা ৩২ °সেলসিয়াস।

জীবজগৎ[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

উদ্ভিদজগৎ[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

মূল্যবান সেগুন ও বিষুবীয় গাছপালায় ভরা বন মায়ানমারের শতকরা ৪৯ ভাগের বেশি এলাকা জুড়ে রয়েছে। অন্যান্য গাছের মধ্যে রাবার, বাবলা, বাঁশ, ম্যানগ্রোভ, নারিকেল উল্লেখযোগ্য। উত্তরাঞ্চলে ওক, পাইন ইত্যাদি রয়েছে বিপুল পরিমাণে।

প্রাণীজগৎ[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

বন্য জীবজন্তুর মধ্যে বাঘ, বুনো মহিষ, মেঘলা চিতা, বুনো শূকর, শিয়াল, হরিণ, কৃষ্ণসার, হাতি, উল্লুক, বানর, চামচিকা, বনরুই এবং কলাবাদুড় পাওয়া যায়। আটশ'রও বেশি প্রজাতির পাখি পাওয়া যায় যার মাঝে আছে সবুজ টিয়া, পাতি ময়না, ময়ূর, লাল বনমোরগ, বাবুই, কাক, বক, মানিকজোড়, লক্ষ্মীপেঁচা প্রভৃতি। সরীসৃপের মাঝে রয়েছে কুমির, তক্ষক, গুই সাপ, অজগর, শঙ্খচূড়, কচ্ছপ প্রভৃতি। স্বাদু পানির মাছ পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণে, যা এখানকার খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

অর্থনীতি[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

মিয়ানমারের কৃৃষকেরা ধান রোপন করছে।

thumb|ইয়াঙ্গুনে অবস্থিত জংশন সিটি টাওয়ার। কয়েক দশক স্থবিরতা, অব্যবস্থাপনা এবং বিচ্ছিন্নতায় ভুগতে মিয়ানমার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম দরিদ্র দেশ। আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ শিক্ষিত লোকবলের অভাব মিয়ানমারের অর্থনীতিতে বাধা সৃষ্টি করেছে, যদিও বিদেশী দেশ ও সংস্থার সহযোগিতায় নতুন সরকার দ্বারা চালিত সাম্প্রতিক সংস্কার ও বিকাশ এটিকে অতীতের বিষয়টিকে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েছে।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মতাদর্শগত লড়াই জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করেছে। কয়েক দশক গৃহযুদ্ধ এবং অশান্তি মিয়ানমারের বর্তমান স্তরের দারিদ্র্য এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির অভাবকে অবদান রেখেছে। ব্যক্তিগত জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোগত উন্নতি মনোনিবেশিত সরকারী প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে পারেনি। মিয়ানমারে পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত অভাব রয়েছে। জিনিসপত্র মূলত থাই সীমান্তের ওপারে (যেখানে বেশিরভাগ অবৈধ ওষুধ রফতানি হয়) এবং ইরাবতী নদীর তীরে। রেলপথ পুরানো এবং প্রাথমিক, 19 তম শতাব্দীর শেষের দিকে নির্মাণের পর থেকে কয়েকটি মেরামত করে প্রধান শহরগুলি বাদে মহাসড়কগুলি সাধারণত অপরিবর্তিত থাকে। ২০১০-১১ সালে বাংলাদেশ মিয়ানমারকে 179 ডলার আমদানির বিপরীতে $ 9.65 মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছিল মিলিয়ন। 2000 এর দশকে মিয়ানমারে চিকিৎসা এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের বার্ষিক আমদানি ছিল 160 মিলিয়ন মার্কিন ডলার

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, চীন এবং ভারত উভয়ই অর্থনৈতিক সুবিধার জন্য মিয়ানমার সরকারের সাথে সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অনেক দেশ মিয়ানমারের উপর বিনিয়োগ ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০১২ সালে তাদের বেশিরভাগ নিষেধাজ্ঞাকে হ্রাস করেছে বৈদেশিক বিনিয়োগ মূলত চীন, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত এবং থাইল্যান্ড থেকে আসে।

দেশের সমস্ত বড় শিল্প কর্পোরেশনগুলিতে (তেল উৎপাদন এবং ভোগ্যপণ্য থেকে শুরু করে পরিবহন ও পর্যটন পর্যন্ত) তাতমাদও (মিয়ানমারের মিলিটারি) সর্বাধিক অংশীদারদের অবস্থান রয়েছে।

জনসংখ্যা[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

মিয়ানমারের ১৫০ বছরের জনসংখ্যা সংবলিত একটি চার্ট।

শিক্ষাব্যবস্থাপনা[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

স্বাস্থ্যব্যপস্থাপনা[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

সংস্কৃৃতি[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

ভাষা[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

মিয়ানমারের প্রধান জনগোষ্ঠীসমূহের ভাষা।

বর্মী ভাষা মায়ানমারের সরকারী ভাষা। বর্মী ভাষাতে মায়ানমারের প্রায় ৮০% লোক কথা বলেন। এছাড়াও মায়ানমারে স্থানীয় আরও প্রায় ১০০টি ভাষা প্রচলিত। এদের মধ্যে কারেন ভাষারসহ বেশ কিছু উপভাষা (প্রায় ৩০ লক্ষ বক্তা) এবং শান ভাষার উপভাষাগুলি (প্রায় ৩০ লক্ষ বক্তা) উল্লেখযোগ্য। সংখ্যালঘু ভাষাগুলির মধ্যে আরাকানি ভাষা, চিন ভাষার বিভিন্ন উপভাষা, জিংপো ভাষা, রোহিঙ্গা ভাষা, লু ভাষা এবং পারাউক ভাষা উল্লেখযোগ্য।

ধর্ম[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

মিয়ানমার একটি বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র। এখানে ৮৮% মানুষ বৌদ্ধ ধর্মে বিশ্বাসী। এখানে 8% খ্রিস্টান এবং অল্প সংখ্যক মুসলিম ও হিন্দু রয়েছে।

পোশাক-পরিচ্ছদ[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

বর্মী কিন্নর নৃত্যের পোশাক।
প্রথাগত পোশাক পরিহিত অবস্থায় মৌলামাইনে মোন সম্প্রদায়ের কিছু মেয়ে।

স্থাপত্যশিল্প[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

ইনওয়া মঠ।
শ্বেদাগোন প্যাগোডা।

রন্ধনশৈলী[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

খেলাধুলা[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

ফুটবল,ব্যাডমিন্টন,বেসবল এবং ক্রিকেট

আরো দেখুন[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

টীকা[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

  1. বর্মী: မြန်မာ মিয়ামা, আ-ধ্ব-ব: [mjəmà]
  2. কিছু সংবাদ মাধ্যম ও পুস্তকে মায়ানমার নামটি প্রদর্শন করা হয়, মূলত মিয়ানমার শব্দটির ইংরেজি উচ্চারণ থেকেই এই বানানটি এসেছে।
  3. বর্মী: ဗမာ বামা, আ-ধ্ব-ব: [bəmà]
  4. অধিকাংশ সংবাদ মাধ্যম ও পুস্তকে বার্মা নামটি প্রদর্শন করা হয়, মায়ানমার বানানটির মতোই বর্মা শব্দটির ইংরেজি উচ্চারণ থেকেই বার্মা বানানটি এসেছে।
  5. এশিয়া মহাদেশে মিয়ানমারের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সংস্কৃতিগত দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মূল ভূখণ্ডের দেশগুলোর সঙ্গে মিল থাকলেও ভৌগোলিকভাবে ইন্ডিয়ান প্লেটের নিকটবর্তী হওয়ায় দেশটি দক্ষিণ এশিয়ার অংশ। তবে মিয়ানমার আসিয়ানভুক্ত দেশ হওয়ায় এটি নিজেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অংশ হিসাবে দাবি করে।
  6. বর্মী: ပြည်ထောင်စု သမ္မတ မြန်မာ နိုင်ငံတော် [pjìdàʊɴzṵ θàɴməda̰ mjəmà nàɪɴŋàɴdɔ̀] পিদাউঁযু সাঁমাডা মিয়ামা নাইঁঙাঁডো
  7. နေပြည်တော် [nèpjìdɔ̀] নেপিডো

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

  1. "ACT Health Community Profile, pg. 1" (PDF)। Multicultural Health Policy Unit। ১১ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৮ 
  2. "Myanmar Population (2018) – Worldometers"worldometers.info 
  3. ৩.০ ৩.১ ৩.২ ৩.৩ "World Economic Outlook Database, October 2019"IMF.orgInternational Monetary Fund। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০২০ 
  4. "GINI index (World Bank estimate)"data.worldbank.orgWorld Bank। সংগ্রহের তারিখ ৫ মার্চ ২০১৯ 
  5. Human Development Report 2020 The Next Frontier: Human Development and the Anthropocene (PDF)। United Nations Development Programme। ১৫ ডিসেম্বর ২০২০। পৃষ্ঠা 343–346। আইএসবিএন 978-92-1-126442-5। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর ২০২০ 
  6. George Aaron Broadwell; Dept. of Anthropology; University at Albany, Albany, NY; accessed July 11, 2006
  7. "The Political Economy of China-Myanmar Relations:Strategic and Economic Dimensions" (PDF)। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ 
  8. [Denny Roy, China’s Foreign Relations, (Lanham, Maryland: Rowman & Littlefield Publishers, Inc, 1998), p.174]

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

লুয়া ত্রুটি মডিউল:সহপ্রকল্প_সংযোগ এর 368 নং লাইনে: attempt to index field 'wikibase' (a nil value)।

সরকার
সাধারণ তথ্য
অর্থনীতি
কৃষি
বাণিজ্য

লুয়া ত্রুটি মডিউল:স্থানাঙ্ক এর 545 নং লাইনে: attempt to index field 'wikibase' (a nil value)।