ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান
![]() |
| ভারতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ইতিহাস |
|---|
| বিষয় অনুযায়ী |
ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান হল সাংস্কৃতিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের একটি শাখায়। এই শাখায় প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ভারতের সমাজ ও সংস্কৃতিতে জ্যোতির্বিজ্ঞান-সংক্রান্ত জ্ঞানের প্রয়োগ ও প্রভাব, মহাজাগতিক বস্তু ও ঘটনাবলির সংগৃহীত ঐতিহাসিক তথ্যের বিশ্লেষণ, জ্ঞানের পরিধি বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চার বিবর্তন এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতিষের ঐতিহাসিক সম্পর্কের দিকগুলি পর্যালোচিত হয়।
ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানের সুদীর্ঘ ইতিহাস প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত পরিব্যাপ্ত। জ্যোতির্বিজ্ঞানের এই শাখাটির মূল নিহিত রয়েছে সিন্ধু সভ্যতা বা তারও পূর্ববর্তী যুগে।[১][২] খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দ নাগাদ[৩] ঋগ্বেদ রচিত হওয়ার পরে বেদাঙ্গ বা বেদ চর্চার অন্যতম "সহায়ক পাঠ" হিসেবে জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটে।[৪] যতদূর জানা গিয়েছে, বেদাঙ্গ জ্যোতিষ হল ভারতের প্রাচীনতম জ্যোতির্বিজ্ঞান গ্রন্থ। এটির রচনাকাল খ্রিস্টপূর্ব ১৪০০-১২০০ অব্দ। তবে এই গ্রন্থের যে পাঠটি এখনও পাওয়া যায়, সেটি সম্ভবত খ্রিস্টপূর্ব ৭০০-৬০০ অব্দ নাগাদ রচিত)।[৫]
খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতাব্দীর গোড়ার দিকে এবং খ্রিস্টীয় প্রথম সহস্রাব্দের প্রথমার্ধে ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান গ্রিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কর্তৃক প্রভাবিত হয়।[৬][৭][৮] এর উদাহরণস্বরূপ যবনজাতক[৬] ও রোমকসিদ্ধান্ত গ্রন্থ দু’টির নাম করা যায়। দ্বিতীয় গ্রন্থটি ছিল খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীতে প্রচারিত একটি গ্রিক গ্রন্থের সংস্কৃত অনুবাদ।[৯]
ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান পরিপূর্ণতা লাভ করে খ্রিস্টীয় ৫ম-৬ষ্ঠ শতাব্দীতে আর্যভট্টের সময়কালে। তাঁর লেখা আর্যভট্টীয় গ্রন্থখানি সমসাময়িককালের জ্যোতির্বিজ্ঞান-সংক্রান্ত জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্বের একটি উদাহরণ। পরবর্তীকালে ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান ইসলামি জ্যোতির্বিজ্ঞান, চীনা জ্যোতির্বিজ্ঞান, ইউরোপীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান[১০] ও অন্যান্য কয়েকটি সাংস্কৃতিক জ্যোতির্বিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করেছিল। ধ্রুপদি যুগের অন্যান্য জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্রহ্মগুপ্ত, বরাহমিহির ও লল্লের নাম উল্লেখযোগ্য। এঁরা আর্যভট্টের তত্ত্বকে আরও বিস্তৃত করেছিলেন।
মধ্যযুগ থেকে শুরু করে খ্রিস্টীয় ১৬শ বা ১৭শ শতাব্দী পর্যন্ত স্থানীয় ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চার একটি স্বতন্ত্র ধারা সক্রিয় ছিল। এই ক্ষেত্রে বিশেষভাবে কেরল জ্যোতির্বিজ্ঞান ও গণিত সম্প্রদায়ের নাম উল্লেখযোগ্য।
ইতিহাস[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]
সিন্ধু সভ্যতার সময় থেকে ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানের শুরু হয়। বেদে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ধারণা ও নক্ষত্রের ব্যাপারে লেখা আছে ।আস্তে - আস্তে ধার্মিক কর্মের সাথে নক্ষত্রের গতিবিধির সম্পর্ক বাড়তে শুরু করল।বেদের শুল্ক সূত্রে সূত্রে উন্নত গণিত ও বুনিয়াদি জ্যোতির্বিজ্ঞানের ব্যাপারে লেখা আছে।বেদাঙ্গ জ্যোতিষে সূর্য , চন্দ্র , নক্ষত্র ও পঞ্জিকার ব্যাপারে বিশদে লেখা আছে । এই সময়ে এই সময়ে(৫-৬ শতাব্দী ) ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রকাশ ঘটে । সূর্যসিদ্ধান্ত (যেখানে পৃথিবীর আবর্তন করতে সময় , নক্ষত্র , মানিক আজও ইত্যাদির ব্যাপারে প্রায় আজকের মত হিসাব করে পঞ্জিকা তৈরী করা হয়েছে )লেখা হয় । বরামিহির পঞ্চসিদ্ধান্তে সূর্যঘড়ির সাহায্য পৃথিবীর মধ্যরেখা খুঁজেছিল । আর্যভট্ট বলেছিলেন যে গ্রহের কক্ষপথ ডিম্বাকার হয় , গোল না। অন্যান্য বিষয় যেমন সময় মাপার ইউনিট , বিভিন্ন গ্রহের মডেল , ইত্যাদি নিয়ে তখন গবেষণা হত।
পঞ্জিকা বা ক্যালেন্ডার[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]
সূর্যসিদ্ধান্তের তথ্যর উপর ভিত্তি করে ভারতীয় পত্রিকা তৈরী হয় । বেদাঙ্গ জ্যোতিষের মতে মকর বা পৌষ সংক্রান্তির পরে বছর শুরু হয় । ঋতুর ভিত্তিতে মাস তৈরী হয়(যেমন: এক ঋতু = ২ মাস)। কিন্তু দক্ষিণ ভারতের মাস দেরীতে সময় শুরু হয়।( চৈত্র - বৈশাখ = বসন্ত ) । কিন্তু ভারতবর্ষের সর্বত্র ছয় ঋতু(গীষ্ম , বর্ষা, শরৎ , হেমন্ত,শীত, বসন্ত)।
ভারতবর্ষে চার ধরনের পঞ্জিকা আছে:-
(১)শকাব্দ বা শকাব্দী:-এটি ভারতের জাতীয় পঞ্জিকা এটিকে ভারতের গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকা বলা যেতে পারে ।এটি গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকাএর ৭৮ বছর পরে শুরু হয়।
(২)সূর্যসিদ্ধান্ত বা হিন্দু পঞ্জিকা:-এর হিসাব সুর্যের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে । এর এক বছরে ৬৬৫/৩৬৬ দিন হয় । মাসের দিন আলাদা - আলাদা হয়।উৎসবের দিনক্ষণ চাঁদ বা অন্য নক্ষত্রের হিসাবে ঠিক করা হয় ।
(৩)চান্দ্রিক পঞ্জিকা:- এটি চাঁদের উপর ভিত্তি করে তৈরী হয়। বছরে ৩৫৪/৩৫৫ দিন থাকে।মাস ২৯/৩০ দিনের হয় ।এর উদাহরণ হল বিক্রম সম্ভত ও হিজরি পঞ্জিকা।
(৪)গ্রেগোরিয়ান কালেন্ডার:-এটির মাসের দিন ঠিক থাকে।যেই সালের সংখ্যা চার দিয়ে ভাগ যায় , সেটি লিপ ইয়ার আর এক দিন বেশি হয় । সালে ৩৬৫/৩৬৬ দিন থাকে । যেই লিপ ইয়ার ৪০০ দিয়ে ভাগ যায়,সেটি লিপ ইয়ার নয়"।
জে.এ.বি ভ্যান বুইটেনেন(২০০৮) সালে ভারতীয় পঞ্জিকার ব্যাপারে বলে
এটি পঞ্জিকার সবচেয়ে পুরোনো সিস্টেম। সময় নক্ষত্রমন্ডল ও চাঁদ দেখে বিচার করা হয়। রাতের বেলা সূর্যের স্থান জানার জন্য বিশেষ পদ্ধতি আছে।
আন্তর্জাতিক প্রচার, ব্যবহার ও সম্পর্ক[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]
<nowiki>ভারতীয় ও গ্রীক জ্যোতির্বিজ্ঞান:- ডেভিড পিনগ্রীর মতে ভারতীয় ও গ্রীক সভ্যতার মধ্যে সম্পর্ক ছিল। পৌলিসা ও গার্গী সংহিতা গ্রীকগ্রন্থের সংস্কৃত ভাষায় অনূবাদ।অ্যালেক্সান্ডারের রাজ্যবৃদ্ধির গ্রীক জ্যোতির্বিজ্ঞানী সিদ্ধান্ত পর ভারতে আসে । রোমক সিদ্ধান্ত ও ইয়ভনাজাতক গ্রীক লিপির সংস্কৃত অনুবাদ। সিন্ধু নদীর পাড়ে গ্রীক জ্যোতির্বিজ্ঞান ব্যবহার করা হত। পঞ্চসিদ্ধান্তে পাঁচ সভ্যতার(গ্রীক ও ভারতীয় সভ্যতার ও) জ্যোতির্বিজ্ঞানী তথ্য আছে। ভারতীয় ও চাইনিজ জ্যোতির্বিজ্ঞান:-
ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান বৌদ্ধধর্মের সাথে চীনে জ্যোতির্বিজ্ঞানের গ্রন্থগুলিরও অনুবাদ হয়েছিল । তাং সাম্রাজ্যর সময়ে ভারতীয় ও চাইনিজ জ্যোতির্বিজ্ঞান এক সাথে শেখা হত।
ভারতীয় ও মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞান: -
ইরানে অনেক বই ফারসী ও আরবী ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে । আরব অঙ্কবিদরা গ্রীকদের বৃত্তচাপের জ্যা ছেড়ে ভারতীয়দের সাইন ( চাপের এক প্রান্ত থেকে ব্যাম পর্যন্ত অঙ্কিত রেখা ) গ্রহণ করেছিল । মুঘল সাম্রাজ্যে ভারতীয় ও মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে । মুসলিম যন্ত্রগুলি ভারতীয় অঙ্কের সাথে চালানো হতে হত । ভারতীয় মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জিজ সিদ্ধান্ত আপডেট করেছিল । হুমায়ূন দিল্লিতে তারামন্ডল বানিয়েছিলেন ।
তথ্যসূত্র[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]
- ↑ Pierre-Yves Bely; Carol Christian; Jean-René Roy। A Question and Answer Guide to Astronomy। Cambridge University Press। পৃষ্ঠা 197।
- ↑ লুয়া ত্রুটি মডিউল:উদ্ধৃতি/শনাক্তক এর 47 নং লাইনে: attempt to index field 'wikibase' (a nil value)।
- ↑ The Vedas: An Introduction to Hinduism’s Sacred Texts, Roshen Dalal, p.188
- ↑ Sarma (2008), Astronomy in India
- ↑ Subbarayappa, B. V. (১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯)। "Indian astronomy: An historical perspective"। Biswas, S. K.; Mallik, D. C. V.; Vishveshwara, C. V.। Cosmic Perspectives। Cambridge University Press। পৃষ্ঠা 25–40। আইএসবিএন 978-0-521-34354-1।
- ↑ ৬.০ ৬.১ Highlights of Astronomy, Volume 11B: As presented at the XXIIIrd General Assembly of the IAU, 1997. Johannes Andersen Springer, 31 January 1999 – Science – 616 pages. page 721 [১]
- ↑ Babylon to Voyager and Beyond: A History of Planetary Astronomy. David Leverington. Cambridge University Press, 29 May 2010 – Science – 568 pages. page 41 [২]
- ↑ The History and Practice of Ancient Astronomy. James Evans. Oxford University Press, 1 October 1998 – History – 496 pages. Page 393 [৩]
- ↑ Foreign Impact on Indian Life and Culture (c. 326 B.C. to C. 300 A.D.). Satyendra Nath Naskar. Abhinav Publications, 1 January 1996 – History – 253 pages. Pages 56–57 [৪]
- ↑ "Star Maps: History, Artistry, and Cartography", p. 17, by Nick Kanas, 2012
